এবারই সেরা সুযোগ হ্যারি কেইনের

সংগৃহীত ছবি
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন মনে করেন, আসন্ন বিশ্বকাপ তার ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনের সেরা সুযোগ। তৃতীয় বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ শারীরিক সামর্থ্য নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড। অসাধারণ গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দেশের হয়ে চূড়ান্ত সাফল্যের স্বপ্ন পূরণ এবং ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েছেন তিনি।
অত্যন্ত প্রতীক্ষিত এই টুর্নামেন্টের আগে কেইন অসাধারণ ফর্মে আছেন। ঘরোয়া মৌসুমে অনবদ্য পারফরম্যান্সের পর তিনি এখন পুরোপুরি তৈরি। আইটিভি ফুটবলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ফুটবলের অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করলেও নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী, ‘সবসময়ই মনে হয় এটাই হয়তো শেষ সুযোগ, কারণ ফুটবলে কখনো আগে থেকে বলা যায় না। আমি দীর্ঘদিন খেলে যেতে চাই, এটা সবাই জানে। আমি মনে করি এখন আমার সেরা সময় চলছে, আগে কখনো এত ভালো অনুভব করিনি।‘
বহু বছর খেলার ইচ্ছা থাকলেও পেশাদার ফুটবলের বাস্তবতা এবং আঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। তবে এই সচেতনতাই বড় মঞ্চে সফল হওয়ার তাড়না আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। কেইন আরও বলেন, ‘ক্ষুধাটা আছে এই কারণেই যে এটাই হয়তো আমার শেষ সুযোগ। হতেই পারে, ফুটবলে কিছুই আগে থেকে বলা যায় না। আঘাত কখন আসে কেউ জানে না। বিশ্বকাপ আমার কাছে যেকোনো ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। এটা আমার তৃতীয় টুর্নামেন্ট।’ বিশ্বকাপ জিতলে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ব্যালন ডি'অরের প্রকৃত দাবিদার হয়ে উঠবেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
জাতীয় দলের এই অধিনায়ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করে চলেছেন। গত শনিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তার গোলটি শুধু আরেকটি গোলই নয়, ছিল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই গোলে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে — ৭৯ গোল নিয়ে তিনি এখন একাই শীর্ষে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এই মৌসুমে তিনি করেছেন ৬৭ গোল।
এই গতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ধরে রাখাটা দলের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শারীরিক সক্ষমতা এবং দলের সার্বিক মান — এই দুইয়ের অপূর্ব সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে কেইন বলেন, ‘আমি এখন যে ফর্মে আছি এবং যে মৌসুম কাটিয়েছি, তাতে বলতে পারি এটাই সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ জেতার সেরা সুযোগ।’
কোস্টারিকার বিপক্ষে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ম্যাচ সেরে ইংল্যান্ড এবার পুরোপুরি মনোযোগ দেবে গ্রুপ 'এল'-এর খেলায়। কেইন ও তার দল আগামী ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর ২৩ জুন ঘানা এবং ২৭ জুন পানামার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। কেইন যদি এই দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ইতিহাস গড়ার সত্যিকারের সুযোগ রয়েছে এই দলের।




