আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতি তদন্তে এফবিআই

এএফএ সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া
আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার ও দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে মাঠে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটির প্রধান ক্লাউদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পরিচালিত আর্থিক কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে গোয়েন্দা ও কৌঁসুলিরা। এএফএর বাণিজ্যিক স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রে দেখভাল করে ট্যুরপ্রড এন্টার এলএলসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে আছেন হাভিয়ের ফারোনি ও তার স্ত্রী এরিকা জিলেট। তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি ব্যাংকের মাধ্যমে ২৬০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগের তদন্ত করছে এফবিআই, সেই সঙ্গে আরও ৫৭ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচারের বিষয়টিও তদন্তাধীন। ট্যুরপ্রেড এন্টার এলএলসির মাধ্যমে অ্যাডিডাস এবং ওয়ার্নার গ্রুপের মতো বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম 'লা নাসিওন'-এর হাতে আসা ব্যাংকিং নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান—সিটি ব্যাংক, সিনোভুস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান এবং পিএনসি ব্যাংকে খোলা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্তত ২৬০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন করেছে। তবে এই বিপুল অর্থের শুধু একটি অংশই প্রতিষ্ঠানটির দৃশ্যমান পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, আরও প্রায় ৫৭ মিলিয়ন ডলার এমন কিছু কোম্পানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেগুলোর উৎস এবং গন্তব্য এখনো তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে দানা বাঁধতে শুরু করা এই প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন আর্থিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত অন্তত তিনজন মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটর। তারা হলেন— ওয়াশিংটন ডিসির প্যাট্রিক গুশু ও ক্রিস্টোফার টিং এবং ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মাইকেল বার্জার।
এই তদন্তের অন্যতম বড় অগ্রগতি ছিল ব্যবসায়ী গিয়েরমো তোফনির দেওয়া জবানবন্দি। তোফনিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রে এএফএর এই আর্থিক কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ এনেছিলেন। এ ছাড়া মার্কিন বিচার বিভাগ এ বিষয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সরকারের সাবেক কর্মকর্তাদের তলব করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। তদন্ত যখন গতি পাচ্ছিল, তখন তাপিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছিলেন এবং টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। নিজ দেশে পেনশন তহবিল ও করের টাকা অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগে চলমান একটি মামলায় আদালতের অনুমতি নিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এজন্য আর্জেন্টাইন আদালতে তাকে মোটা অঙ্কের জামানত বা বন্ড জমা দিতে হয়েছে।




