হামজাদের সাফ মিশন শুরু আজ

সংগৃহীত ছবি
ঢাকায় আজ শুরু হচ্ছে সাফ ফুটবল। এর শিরোপা জিতলে কী হবে?
এ প্রশ্নের জবাবে নানা কথা শুনবেন এ দেশের ফুটবল কর্তাদের মুখে। ওসব খুব সিরিয়াসলি নেওয়ার দরকার নেই।
কেন?
তাহলে বলি, ২০০৩ সাফের গল্প। বাংলাদেশ দলের খুঁটিনাটি বিষয়ে খুব খেয়াল রাখতেন প্রয়াত বাদল রায়। তখনকার এই যুগ্ম সম্পাদক বলতেন, ‘সাফ শিরোপা জিতলে আমাদের ফুটবলের টার্নিং পয়েন্ট হবে। খেলাটা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা যাবে। সরকার বিশেষভাবে নজর দেবে। তখন ফুটবল নিয়ে কাজ করাটা সহজ হবে।’
অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটান খুব পরিশ্রম করে দলটিকে তৈরি করেছিলেন টুর্নামেন্টের জন্য। প্রতিটি ম্যাচে স্টেডিয়ামে উপচে পড়া দর্শক; বাইরেও টিকিট ছাড়া হাজার হাজার মানুষের কোলাহল। ফুটবলের প্রতি মানুষের উপচে পড়া ভালোবাসা দেখেছিলাম। এখনকার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক-রজনীরা মাঠে দুর্দান্ত খেলে শিরোপা জেতালেন।
শিরোপাজয়ী দলের আলফাজ, কাঞ্চন, আরমান, মতিউর মুন্নাসহ সবাই আমাদের হিরো। তাদের চোখে স্বপ্ন, এবার অন্তত একটা হিল্লে হবে ফুটবলের। সাফল্যের কারিগর জর্জ কোটানও হয়তো তাই ভেবেছিলেন। তিনিও একটি প্রেসক্রিপশন দিলেন, দেশের সামগ্রিক ফুটবলের সংস্কার কীভাবে হবে, তার একটা রোডম্যাপ। দিন যায়, মাস যায়, একসময় বছরও ঘুরে, কিন্তু কোনো আলাপ হয় না কোটানের ওই ফুটবল প্রেসক্রিপশনের। সেটা হারিয়ে যায় তখনকার বাফুফে সভাপতির ড্রয়ারে কাগজের স্তূপে।
সুতরাং ফুটবলের আর চরিত্র বদল হয়নি। এর আগে ৯৯ সাফ গেমসে ফুটবলে সোনা জেতারও পরও বাস্তবতা বদলায়নি। সুতরাং আমাদের ফুটবল আর ফুটবলীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সাফ ফুটবল শিরোপার কোনো সম্পর্ক নেই।
সম্পর্ক আছে মানুষের। আমজনতা, যারা খেলাটিকে ভালোবেসে পকেটের পয়সা খরচ করে মাঠে আসেন, তাদের কাছে শিরোপার আনন্দ অন্যরকম। আর যারা মাঠে খেলেন, তারা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করেন প্রতিটি ম্যাচ জিততে। শিরোপা জিততে। এই দুপক্ষের চাওয়ায় কোনো খাদ নেই।
এবারও তপু-হামজারা অনেক আগে থেকে বলে আসছেন সাফ শিরোপার কথা। সাফ শিরোপা জয়ের পুরনো প্রত্যয় আর প্রবাসী ফুটবলারদের সৌজন্যে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল প্রবেশ করেছে নতুন যুগে। এর ইতিবাচক ছবিটা ধরা পড়েছে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে। তখন হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে একটি সুসংহত কাঠামো দেখা গিয়েছিল। সুবাদে সমর্থকদের মনেও তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা। তবে সাম্প্রতিক আসিয়ান কাপের পারফরম্যান্স খানিকটা দ্বিধায় ফেলে দেয় ফুটবলানুরাগীদের। নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে সেই স্বপ্নের বাতাবরণ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়। প্রত্যাশার চাপ কি এই জার্মান-আমেরিকান কোচ মেটাতে পারবেন?
কোচের চিন্তা যাই হোক, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় দেশের মাঠে সাফ নিয়ে সংকল্পবদ্ধ। প্রতিজ্ঞা করেছেন দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের। প্রথম ম্যাচে আজ ভুটানের বিপক্ষে বড় তারকা হামজা থাকছেন না, পরের ম্যাচ থেকেই তাকে পাওয়া যাবে। তিনি না থাকলেও জয় আটকে থাকবে না। পরিসংখ্যান ও সমর্থক যখন সঙ্গে তখন মোরসালিন-রাকিবরা মিলিয়ে নিতে পারবেন জয়ের অঙ্ক।
তা ছাড়া ছয় দলের সাফে বাংলাদেশকে ফেভারিট মানছেন প্রতিপক্ষরাও। অবশ্য লঙ্কান ফুটবল দলও দুর্দান্ত। তারাও বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিয়ে চমৎকার খেলছে সাম্প্রতিককালে। যদিও আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসে তারা সাফ শিরোপার চেয়ে এশিয়ান ফুটবলে এগোনোর কথা বলেছেন বিশেষভাবে।
আজ টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে। অথচ দুই দলের সবাই এখনো ঢাকায় আসেননি। ভারতের মূল দল নিউজিল্যান্ডে যাবে প্রীতি ম্যাচ খেলতে। এখানে এসেছে দ্বিতীয় সারির দল, তাও সবাই আসেননি! বংশোদ্ভূত ফুটবলারসমৃদ্ধ পাকিস্তানও তাদের সেরা দল পাঠায়নি; খেলোয়াড়রা ব্যস্ত লিগে খেলতে। সেমিফাইনালে পৌঁছালেই নাকি বাকিরা আসবেন!
সাফ কি তাহলে খণ্ডিত দলের টুর্নামেন্ট হয়ে গেল? সত্যি বললে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে দলগুলো যেভাবে বলেছে, তাতে তাই দাঁড়াচ্ছে। এতে সাফ ফুটবলের সম্মান খুব একটা থাকছে না। সাফের কথা বলতে এসে দলগুলো এশীয় মান, এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির কথা বলেছে। সাফকে তারা বানিয়ে ফেলেছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার টুর্নামেন্ট।
একমাত্র বাংলাদেশের কাছেই সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিয়াস বিষয় হয়ে আছে। তাই হয়তো তাদের ওপর চাপও বেশি। শিরোপা জিতলে মহা আলোড়ন হবে দেশে। মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হবেন হামজারা। না জিতলেও খুব ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না। ফুটবল চলবে বাংলাদেশের নিয়মেই।



