স্বস্তির জয়ে প্রস্তুতি সারল স্পেন-ফ্রান্স

সংগৃহীত ছবি
এবারের আসরের ফেভারিট মানা হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্সকে। বিশ্বকাপের আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য হোঁচট খেয়েছিল দুই দেশই। মূল টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দারুণভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্পেন ও ফ্রান্স। পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে স্পেন। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকেও ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স।
প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল স্পেন। জিততে না পারায় স্পেনের শক্তিমত্তা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। মেক্সিকোর এস্তাদিও কোতেমকে লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর বিপক্ষে স্বরূপে ফিরল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
এই ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেননি ইনজুরিতে থাকা দলের সবচেয়ে বড় তারকা লামিন ইয়ামাল। ইয়ামালকে ছাড়াই অবশ্য হেসেখেলে জিতেছে স্পেন। ম্যাচে বল দখলের লড়াইটা হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। স্পেনের দখলে ছিল ৫৮ শতাংশ বল, পেরুর দখলে ৪২। দুই দলেরই শটস অন টার্গেট ছিল দুটি।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটের মাথায় লিড নেয় স্প্যানিশরা। পাউ কুবারসির অ্যাসিস্টে দলকে এগিয়ে দেন মাইকেল ওয়ারসাবাল। ৩২ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে স্পেন। ফেরান তোরেসের পাসে বল পেয়ে গোল করেন পেদ্রি। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন।
৫৩ মিনিটে পেরুর আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। পেদ্রো গালেসের গোলে বড় জয়ের পথে এগিয়ে যায় স্পেন। ৬৬ মিনিটে স্পেনকে খানিকটা চমকে দিয়েই এক গোল শোধ করে পেরু। লোপেসের অ্যাসিস্টে গোল করেন জারিও ভেলেজ।
অন্যদিকে স্বস্তির জয় পেয়েছে ফ্রান্স। আগের ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। সেই হার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেল ফরাসিরা।
বিশ্বকাপের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার আগে লিলের মাঠে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নেমেছিল ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে বড় জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। ম্যাচে বলের দখলে অনেকটাই এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। ফ্রান্সের দখলে ছিল ৬৬ শতাংশ, আয়ারল্যান্ডের ৩৪। ফ্রান্সের পাঁচটি শটস অন টার্গেটের বিপরীতে আইরিশদের ছিল মাত্র দুটি।
এই ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা খেলেছেন পুরো ৯০ মিনিট। তবে তার পা থেকে আসেনি কোনো গোল অথবা অ্যাসিস্ট। দলের বড় জয়েও তাই নীরব ছিল এমবাপ্পের বুট। প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় গোলের সন্ধানে পার করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। হাফ টাইমের ঠিক আগে ডেডলক ভাঙেন ওলিসে। ৪৩ মিনিটে গোল পান তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর আরও দুটি গোল পেয়েছেন ওলিসে। ৪৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পান এই বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড। ৬৪ মিনিটে এক গোল শোধ করে আয়ারল্যান্ড। প্যাট্রিক কেলির গোলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল আইরিশরা। তবে তাদের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। ৭৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফ্রান্সকে আবারও দুই গোলের লিড এনে দেন ওলিসে। গুস্তোর বাড়ানো বলে গোল করে ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পান এই ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।




