বিশ্বকাপে মেক্সিকান পুলিশের ‘রোবট ডগ’

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব ফুটবলের মহারণ ‘ফিফা বিশ্বকাপ’ মানেই কোটি কোটি দর্শকের উন্মাদনা, উপচে পড়া ভিড় আর টানটান উত্তেজনা। তবে এই বিশাল আয়োজনের পেছনে আয়োজক দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর থাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে এক অভিনব ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে মেক্সিকান পুলিশ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, এবার তারা প্রথাগত পুলিশ কুকুরের (কে৯ স্কোয়াড) ওপর নয়, বরং সম্পূর্ণ ভরসা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির চার পেয়ে ‘রোবট ডগ’ বা রোবটিক কুকুরের ওপর।
নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত এই চার পেয়ে রোবটগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। স্টেডিয়াম বা তার আশপাশে কোনো ধরনের সংঘর্ষ, হাঙ্গামা বা উগ্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেখানে রোবটগুলোকে দ্রুত মোতায়েন করা হবে।
রোবটগুলোর মূল কাজ হবে, ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। এগুলোতে সংযুক্ত রয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির ক্যামেরা, যা সরাসরি লাইভ ভিডিও ও ডেটা কন্ট্রোল রুমে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সম্প্রচার করবে। এর ফলে মূল মাঠে বা গ্যালারিতে সরাসরি অ্যাকশনে যাওয়ার আগেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ভেতরের প্রকৃত অবস্থা নিখুঁতভাবে দেখার ও বোঝার সুযোগ পাবেন। লাইভ ফুটেজ পর্যালোচনার পর পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তবেই পুলিশ সদস্যরা মাঠে নামবেন।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মেগা ইভেন্টকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে মেক্সিকান প্রশাসন বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। মেক্সিকোর মনটেরি মেট্রো অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত গুয়াদালুপে সিটি কাউন্সিল এই প্রযুক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছে। গুয়াদালুপে প্রশাসন মেক্সিকান মুদ্রায় প্রায় ২৫ লাখ পেসো (মার্কিন ডলারে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার) ব্যয়ে এই রোবটিক কুকুরগুলো সংগ্রহ করেছে।
গুয়াদালুপের মেয়র হেক্টর গার্সিয়া এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে বলেন, ‘যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে এই রোবটগুলো প্রস্তুত থাকবে। আমাদের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হস্তক্ষেপে এই রোবট ডগগুলো মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।’
প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নের পেছনে মেক্সিকান পুলিশের মূল দর্শন হলো মানুষের জীবনের সুরক্ষা। যেকোনো দাঙ্গা বা সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত হলে প্রাণহানির বিশাল ঝুঁকি থাকে। মেয়র হেক্টর গার্সিয়া বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, এই রোবট ডগগুলোর মূল উদ্দেশ্যই হলো মাঠে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের শারীরিক নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষা করা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রযুক্তির এমন ব্যবহার মেক্সিকোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একদিকে যেমন প্রযুক্তির সাহায্যে নিখুঁতভাবে অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জীবনের ঝুঁকিও অনেকটা কমে আসবে। ফুটবলপ্রেমীদের সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা উপভোগ করায়ও বড় সহায়ক হবে মেক্সিকান পুলিশের এই রোবটিক বিপ্লব।




