আবাহনী হতে চায় না ফর্টিস

ছবি: আগামীর সময়
গত বছর ঢাকাতেই মুরাস ইউনাইটেড এফসির কাছে হার মেনেছিল আবাহনী লিমিটেড। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ২-০ গোলের হারে আবাহনী যেতে পারেনি গ্রুপ পর্বে। মঙ্গলবার ঢাকাতেই সেই মুরাস এফসি এসেছে একই লক্ষ্য নিয়ে। তবে এবার প্রতিপক্ষ ফর্টিস এফসি। যারা অভিষেকটা রাঙাতে চায় কিরগিজ পরাশক্তিকে চমকে দিয়ে। বরণ করতে চায় না আবাহনীর পরিণতি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ৩টায়।
শীর্ষ লিগে আবির্ভাবের পর থেকেই মাঝারি মানের দল গড়ে টিকে আছে ফর্টিস এফসি। গত চার মৌসুমে তাদের অবস্থান তিন থেকে ছয়ের মধ্যে। গত লিগেও হয়েছে তৃতীয়। ভাগ্যক্রমে তারা পেয়েছে এএফসি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ। চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ আবাহনীর খেলার কথা ছিল এই টুর্নামেন্টে। তবে ক্লাব লাইসেন্সিং না করায় সুযোগ পায় ফর্টিস ও বাংলাদেশ পুলিশ এফসি, যারা মঙ্গলবার জর্ডানে মোকাবিলা করবে সিরিয়ার চ্যাম্পিয়ন আল-ইত্তিহাদ আহলির।
ফর্টিস এফসির একটা বিশেষত্ব আছে। শুরু থেকেই দলটির ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, তারকা পেছনে না ছুটে তারকা তৈরি করার। তাই দলটি কখনোই বড় বাজেটে নামিদামি তারকার পেছনে ছুটে না। বরং তরুণদের এনে জাতীয় দলের মানের করে গড়ে তোলাই ক্লাবটি করে আসছে চার মৌসুম ধরে। শুরু থেকেই এই দলের কোচের দায়িত্বে মাসুদ পারভেজ কায়সার। নিজেদের লক্ষ্য ধরে রেখে আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে অভিষেকের শেষ সীমায় পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব এ কোচ অবশ্যই পাবেন। ক্লাবটির মতো কায়সারেরও এই মানের টুর্নামেন্টে ডাগআউটে থাকার অভিষেকটা হবে এই ম্যাচ দিয়ে। তাই শুরুটা স্মরণীয় করতে সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
‘এটা অনেক বড় দায়িত্ব। সত্যি বললে, ফর্টিস যেহেতু লিগে তৃতীয় হয়েছিল, আমরা প্রস্তুত ছিলাম না এএফসি কাপে খেলার ব্যাপারে। আকস্মিক বা যেকোনো কারণেই হোক, সুযোগটা আমাদের কাছে এসেছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অল্প সময়ে দলটা গড়ে তোলা, পছন্দসই খেলোয়াড় বেছে নেওয়া। নতুন, পুরানোর স্থানীয়দের পাশাপাশি আমরা এই ম্যাচের জন্য আটজন বিদেশি নিয়েছি। প্রায় তিন সপ্তাহ কাজ করার সুযোগ হয়েছে। ৯০ মিনিটের এই ম্যাচে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমি আমার নিজের ও দলের ওপর শতভাগ বিশ্বাস রাখছি।’
কায়সার অনেক বড় স্বপ্ন দেখাতে চান না। বরং সীমিত সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারে ৯০ মিনিটের খেলায় এমন কিছু করতে চান, যা দেখে মানুষ অন্তত বলবে, দলটির চেষ্টার কমতি ছিল না। মুরাস ইউনাইটেড এএফসি আসরে বড় স্বপ্ন নিয়ে খেলে অনেক আগে থেকেই। গেলবার তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। দলটিতে ১৬ জন আছে বিদেশি ফুটবলার। এর মধ্যে ইউক্রেনের অনেক ফুটবলার আছেন। কিরগিজ লিগে এখন তারা আছে দ্বিতীয় স্থানে। লিগ চলছে পুরোদমে।
অন্যদিকে ফর্টিস নিয়েছে মাত্র এক মাসের প্রস্তুতি। ঘরোয়া ফুটবল শুরুই হয়নি। তারপরও নিজেদের আবহাওয়া, পরিচিত আবহ ও দর্শকের সামনে সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কোচ কায়সার, ‘মুরাস এফসির শীর্ষ লিগে আবির্ভাবও আমাদের সমসাময়িক। চার বছর আগে তারা শীর্ষ লিগে এসেছে। ওরা দলবদলে অংশ নেয় এএফসি কাপের ভাবনা মাথায় রেখে। কিরগিজ জাতীয় দলের ফুটবলারও আছে এই দলে। ওরা অবশ্যই ভালো দল। তবে অপরাজেয় না। ওদের হারানোই যাবে না, বিষয়টা এমন না।’
দলটির আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র গাম্বিয়ান স্ট্রাইকার পা ওমর বাবু গত মৌসুমের মতো এবারও নেতৃত্ব দেবেন। তিনিও দিচ্ছেন লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি, ‘আমরা সবাই বড় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত আছি। ফর্টিসের এই ম্যাচ দিয়ে ইতিহাস গড়বে, আমরাও এর অংশ হব। তাই ভীষণ রোমাঞ্চিত আছি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে জিতে পরের ধাপে পৌঁছে যাওয়া। অভিষেকে জয় পেলে ইতিহাসে ঠাঁই পাব আমরাও।’
মুরাস ইউনাইটেডের কোচ এদমার দে লেসার্দা ভাঙাভাঙা ইংরেজিতে ফর্টিসকে শক্তিশালী দল আখ্যা দিয়ে জয়ের জন্য ঢাকায় আসার কথা বলেছেন। গত বছর দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন না ইউক্রেনের এ কোচ। তবে এবার এসেছেন আগের পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে। এখানকার বৈরী আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ উতরে জয় নিয়ে ফেরার কথা বলেছেন দলটির অধিনায়ক আমি ঝাপারভ। গত বছর এই ফুটবলারের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আবাহনীর বিপক্ষে খেলার।
তবে এই ফর্টিস প্রস্তুত অঘটনের জন্ম দিতে। শুরুতেই আবাহনীর মতো হেরে বিদায় নয়, বরং ভয়ডরহীন ফুটবলে দেশকে সাফল্য এনে দিতে চায় তারা।






