বিশ্বকাপ
চোটের শঙ্কা নিয়ে ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। নিজেদের বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার মিশন সামনে রেখে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা দল। সোমবার স্পোর্টিং কানসাস সিটির অনুশীলন ক্যাম্পে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে ক্যাম্পে এসেছেন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলও। তবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে নামার অপেক্ষায় থাকা এই ফুটবল জাদুকরের আগমনকে ঘিরে স্বস্তির চেয়ে বেশি কাজ করছে উদ্বেগ। কারণ, মেসির সঙ্গে এসেছে তার বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিং চোটের শঙ্কা।
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির শেষ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ৬-৪ ব্যবধানের জয়ের দিনে ৭৩ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। বাঁ পায়ে অস্বস্তি বোধ করায় তিনি নিজেই উঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মায়ামির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেসির পেশিতে অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগতে পারে।
অধিনায়কের চোট নিয়ে কানসাসে দলের হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা এখান থেকে মায়ামির ম্যাচটি দেখছিলাম। ও যখন নিজেই উঠে যাওয়ার অনুরোধ করল, আমরা বুঝলাম ও ভালো বোধ করছে না। তবে প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্ট খুব একটা খারাপ নয়।'
মেসিসহ দলের একাধিক খেলোয়াড়ের চোট নিয়ে কিছুটা চিন্তিত স্কালোনি আরও যোগ করেন, 'আমরা সবাই চাই প্রতিটি খেলোয়াড় যেন শতভাগ ফিট হয়ে ক্যাম্পে আসুক, কিন্তু বাস্তবতা তেমন নয়। শুধু মেসিই নয়, আমাদের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ছোটখাটো চোট নিয়ে এসেছে এবং আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রথম ম্যাচের আগে সবাইকে সেরা ছন্দে ফিরিয়ে আনা।'
শুধু মেসি নয়, স্কালোনির কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে স্কোয়াডের আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের চোট। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ডান হাঁটুর লিগামেন্টে গ্রেড-টু মচকে যাওয়ার চোটে ভুগছেন। ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলা এখনো অনিশ্চিত। গঞ্জালো মন্তিয়েলের বাঁ পায়ের কোয়াড্রিসেপসের টিয়ার (পেশি ফেটে যাওয়া) আছে এবং মোলিনা ভুগছেন বাঁ ঊরুর মাংসপেশির চোটে। এছাড়া দলের এক নম্বর গোলরক্ষক দিবু মার্তিনেস ইউরোপা লিগের ফাইনালের ওয়ার্ম-আপের সময় ডান হাতের অনামিকায় চোট পেয়েছিলেন, সেই ফ্র্যাকচার (হাড় ফাটল) নিয়ে ক্যাম্পে এসেছেন। লেয়ান্দ্রো পারেদেস বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলার সময় পেশি ছিঁড়ে যাওয়ায় অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে।
এই চোটের মিছিল সামাল দিতে স্কালোনি ইতিমধ্যেই ব্যাক-আপ হিসেবে নিকোলাস কাপালদো এবং অগাস্টিন জাই-এর মতো তরুণদের কানসাসে ডেকে পাঠিয়েছেন। ১৫ জুনের মধ্যে ফিফার কাছে চূড়ান্ত স্কোয়াডের পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় খেলোয়াড়দের চোটের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের পুরোটা সময় জুড়ে আর্জেন্টিনার বেস ক্যাম্প হবে স্পোর্টিং কানসাসের আধুনিক ‘কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টার’ এ। এএফএ অত্যন্ত আধুনিক এই সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কমপ্লেক্সটি বেছে নিয়েছে যেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক হাইড্রোথেরাপি রুম, রিকভারি পুল এবং ট্যাকটিক্যাল অ্যানালিসিসের জন্য উন্নত প্রযুক্তি। ১৬ জুন কানসাসের অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান।







