ব্যালন ডি অরের অন্য লড়াই
মেসিকে পেছনে ফেলে জয়ের পথে রোনালদো

সংগৃহীত ছবি
লিওনেল মেসি ব্যালন ডি অর জিতেছেন রেকর্ড ৮ বার। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হাতে এই খেতাব উঠেছে ৫ বার। সংখ্যার দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও ব্যালন ডি অরের অন্যরকম এক লড়াইয়ে মেসিকে হারিয়ে দিচ্ছেন সিআর সেভেন। সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি অরজয়ী নির্বাচনের ভোটে মেসিকে ছাড়িয়ে সেরা নির্বাচিত হওয়ার পথে রোনালদো।
ব্যালন ডি অরের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে অক্টোবরের শুরুতে এই ভোট শুরু হয়। আগামী ২৭ অক্টোবর প্যারিসের স্থানীয় সময় মধ্যরাতে ভোট গ্রহণ শেষ হবে। তালিকায় থাকা ১০ কিংবদন্তির মধ্যে সমর্থকদের বেছে নিতে হচ্ছে তাদের নির্দিষ্ট কোনো ব্যালন ডি অরজয়ী মৌসুম। অন্তত দুবার এই পুরস্কার জিতেছেন, এমন ফুটবলারদেরই রাখা হয়েছে তালিকায়।
মেসি ও রোনালদোর সঙ্গে তালিকায় রয়েছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল হাইনৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাংক বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদ দি স্তেফানো।
ভোটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সেবার প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত পর্তুগিজ তারকার ২০০৮ সালের পুরস্কারজয়ী মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ৬২ শতাংশ।
অন্যদিকে, মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ ভোট। ওই বছরে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। একই বছর টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি অর জেতেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, মেসির আটটি ব্যালন ডি অরজয়ী মৌসুমের মধ্যে সমর্থকদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় তার কোনো একটি মৌসুম এখন পর্যন্ত রোনালদোর ২০০৮ সালের অর্জনের কাছাকাছি যেতে পারেনি।
ভোটের তালিকায় মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি অরজয়ী মৌসুম রয়েছে পরের অবস্থানে। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পর এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। সেবার পিএসজির হয়ে লিগ ওয়ান ও ফরাসি সুপার কাপও জেতেন মেসি। ক্লাবটির হয়ে ৪১ ম্যাচে ২১ গোল করার পাশাপাশি ২০টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। এই মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ৯ শতাংশ।
রোনালদোর ২০০৭ সালের ব্যালন ডি অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ৭ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের পুরস্কারজয়ী মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ২ শতাংশ। মেসি ও রোনালদোর অন্য পুরস্কারজয়ী মৌসুমগুলোর প্রতিটির পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ১ শতাংশ করে। কয়েকটি মৌসুমের ভোটের হার এখনো দৃশ্যমান নয়।
এই ভোটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রতিটি ভোট দিতে খরচ হচ্ছে এক ইউরো। ভোটদাতাদের জন্য এ বছরের ব্যালন ডি অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার সুযোগও রয়েছে। পাশাপাশি তারা ট্রফির একটি বিশেষ ছবি কিনে ডাউনলোড করতে পারবেন। সমর্থকেরা একই খেলোয়াড়ের পক্ষে একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন এবং প্রতিটি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের হার দেখতে পারবেন।



