বাবা-ছেলের বিশ্বকাপ

বাবা ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জিনেদিন জিদান জাদুতেই প্রথম বিশ্বকাপ জেতার উল্লাসে মেতেছিল ফ্রান্স। সেই জিদানের উত্তরসূরি এবার নামবেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। তবে ফ্রান্স নয়, জিদান জুনিয়র লুকা জিদান সুযোগ পেয়েছেন আলজেরিয়া দলে।
২৮ বছর বয়সী লুকা জিদানের ফুটবলের হাতেখড়ি কিন্তু ফ্রান্সেই, খেলেছেন দেশটির অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের হয়েও। তবে গত বছরেই বদলে যায় তার পরিকল্পনা। আলজেরিয়ান দাদা-দাদির কল্যাণে সুযোগ পান সেই দেশের হয়ে খেলার।
এক বছরের মধ্যেই আলজেরিয়ার জাতীয় দলের হয়ে ছয়টি ম্যাচে কিপিং করেছেন লুকা। ক্লাব ফুটবলে গ্রেনাদার হয়ে খেলা লুকা যদি বিশ্বকাপে মাঠে নামেন, তাহলে বাবার পর ছেলেরও বিশ্বকাপে খেলার এলিট তালিকায় ঢুকে পড়বেন তিনি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাবা-ছেলের দুজনের বিশ্বকাপে খেলার ঘটনা একেবারে কম নয়। ২৭টি পরিবারের বাবা-ছেলে মাঠে নেমেছেন বিশ্বমঞ্চে।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বাবা-ছেলের অংশগ্রহণ দেখা গেছে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে। এরপর আছে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে ও ব্রাজিল।
এবারের বিশ্বকাপেই আছেন আর্জেন্টিনার সাবেক দুই ফুটবলারের ছেলে। ডিয়েগো সিমিওনির ছেলে জুলিয়ানো ও পাবলো পাজের ছেলে নিকো পাজ খেলবেন লিওনেল মেসিদের সঙ্গে।
এ তালিকার সবচেয়ে বড় নাম ইতালির মালদিনি পরিবার। ১৯৬২ বিশ্বকাপে ইতালির হয়ে মাঠে নামেন ডিফেন্ডার সিজার মালদিনি। ছেলে পাওলো মালদিনি অবশ্য ছাড়িয়ে গেছেন বাবাকেও। ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২; চারটি বিশ্বকাপে আজ্জুরিদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার।
ডেনমার্কে স্মাইকেল পরিবারও কম বিখ্যাত নয়। পিটার স্মাইকেল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। ছেলে ক্যাসপার স্মাইকেল খেলেছেন ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ।
উরুগুয়ের ফোরলান পরিবারও আছে এই অনন্য কীর্তির তালিকায়। ১৯৬৬ ও ১৯৭৪ বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন পাবলো ফোরলান। ছেলে ডিয়েগো ফোরলান খেলেছেন ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ।
১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মাজিনহো। ছেলে থিয়াগো আলকান্তারা অবশ্য সেলেসাওদের হয়ে খেলেননি। তিনি ২০১৮ সালে স্পেনকে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ফ্রান্সের লিলিয়ান থুরাম ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন। ছেলে মার্কাস থুরাম ছিলেন ২০২২ বিশ্বকাপ দলে।
মেক্সিকোর হার্নান্দেজ পরিবার তো গড়েছে অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড। ছেলে ও বাবা তো বটেই, এই পরিবারের দাদাও খেলেছেন বিশ্বকাপে! দাদা টমাস বালকাজার ১৯৫৪ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। বাবা হাভিয়ের গুতিয়েরেজ ১৯৮৬ বিশ্বকাপে খেলেছেন। ছেলে হাভিয়ের হার্নান্দেজ ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।






