ক্রীড়া ভাতা
কারা বাদ দিল ১৬ ফুটবলারকে

জাতীয় দলের তরুণ স্ট্রাইকার আলপি আক্তারের ভাগ্যে জোটেনি মাসিক ক্রীড়া ভাতা। ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়াবিদদের ভাতার আওতায় আনার সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সরকারি কর্তাদের অদূরদর্শিতা ও ক্রীড়া ফেডারেশনের ভুল পদক্ষেপে। অন্তত ১৬ ফুটবলার ভাতা বঞ্চিত হওয়ার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত ক্রীড়াবিদ বাছাই কমিটি ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। রবিবার নারী ও পুরুষ দলের ১৮ জন করে মোট ৩৬ জনকে মাসিক এক লাখ টাকা করে ভাতার আওতায় আনে সরকার। অথচ সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে দু'দলে মোট খেলোয়াড় ছিল ৪৯ জন। ভাতাপ্রাপ্তরা যখন ক্রীড়া কার্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিমুখের ছবি পোস্ট করতে ব্যস্ত, তখন কিছু ফুটবলার বসে আছেন ভাঙা মন নিয়ে।
গত মার্চে নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলে ছিল ২৬ ফুটবলার। তাদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে ভাতা দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনই সেই তালিকা করে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে। তাই দুটি সংস্থাই একযোগে উসকে দিয়েছে বিতর্ক।
ছেলেদের দলে ঘটেছে আরও বড় ভজঘট। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৩০ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচের ২৩ জনের দলে থেকে ১৫ জনকে দেওয়া হয়েছে ভাতা। এর মধ্যে পাঁচজন প্রবাসী, বিদেশি লিগে বেশি বেতনে খেলেন বলে হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, জায়ান আহমেদ, ফাহামিদুল ইসলাম ও তারেক কাজীর ঠাঁই হয়নি ভাতার তালিকায়। এর বাইরে সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষ, সুমন রেজা ও ফয়সাল আরমান আকাশ বাফুফে ও ক্রীড়া পরিষদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হয়েছেন। আবার সর্বশেষ দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের দলে না থাকা তিনজন- তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন ও সোহেল রানা জুনিয়র আছেন ভাতার তালিকায়! নারী দল থেকে ভাতা পাচ্ছেন না স্বর্ণা রানী মণ্ডল, হালিমা আক্তার, উন্নতি খাতুন, সুরভী আক্তার আরেফিন, আইরিন খাতুন, মোসাম্মৎ সুলতানা ও আলপি আক্তার।
কেন এরকম সিদ্ধান্ত? জবাবে ক্রীড়াবিদ যাচাই কমিটির প্রধান ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান দায় চাপিয়েছেন বাফুফের ওপর, 'ফুটবল দল দুটির নামের তালিকা বাফুফে থেকে আমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমরা শুধু যাচাই করে দেখেছি তালিকায় থাকা নামগুলো সর্বশেষ জাতীয় দলের তালিকায় ছিল কিনা। আমাদেরও একটা সীমাবদ্ধতা ছিল, তাই বাফুফেকে আমরা বলেছিলাম ১৮ জন করে ফুটবলারের নাম পাঠাতে।’
ক্রীড়াবিদ বাছাই কমিটির সদস্যসচিব ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান অবশ্য জানালেন দু'মাস পর নতুন অর্থবছরে যখন তারা নতুন করে ভাতা দেওয়া শুরু করবে, তখন বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, 'ফুটবল ফেডারেশনের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী ভাতা দেওয়া হয়েছে। মানছি এতে করে কিছু ফুটবলার ভাতা পাচ্ছেন না। তবে দু'মাস পরেই নতুন অর্থবছরে আমরা চেষ্টা করব ৫০০ ক্রীড়াবিদকে ভাতার আওতায় আনতে। তখন অবশ্যই বাদ পড়াদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।'
বাফুফে কীভাবে দুটি জাতীয় দলের ১৮ জন করে ফুটবলার বাছাই করার ব্যাখ্যা জানা যায়নি বাফুফের তরফ থেকে। কারণ তারা ব্যস্ত নির্বাহী কমিটির সভা নিয়ে। আর বঞ্চিত ফুটবলাররা কষ্ট পেলেও ভবিষ্যতে বিপদে পড়ার শঙ্কা থেকে এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।
ভাতা পেলেন যারা :
পুরুষ দলের ১৮ : মিতুল মারমা, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, সুজন হোসেন, জামাল ভুইয়া, রহমত মিয়া, সাদ উদ্দিন, শেখ মোরসালিন, শাকিল আহাদ তপু, মোহাম্মদ হৃদয়, সোহেল রানা, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, আব্দুল্লাহ ওমর, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি, তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, সোহেল রানা জুনিয়র ও শাহারিয়ার ইমন।
নারী দলের ১৮ : রূপনা চাকমা, আফঈদা খন্দকার, মিলি আক্তার, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, ঋতুপর্ণা চাকমা, শাহেদা আক্তার রিপা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার (জুনিয়র), শিউলি আজিম, মোসাম্মৎ সাগরিকা, সৌরভী আখন্দ প্রীতি, উমেহলা মারমা ও নবিরন খাতুন।

