৪৪ বছর পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয়, লিডসের মহাকাব্যিক রাত

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে তাদেরকেই হারিয়ে দিল লিডস ইউনাইটেড।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ইতিহাস গড়ল লিডস ইউনাইটেড। ২-১ গোলের এই ঐতিহাসিক জয়ে রেলিগেশন জোন থেকে তারা ৬ পয়েন্টের ব্যবধান গড়েছে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লিগের ম্যাচে লিডস শেষবার জিতেছিল ১৯৮১ সালে। অর্থাৎ দীর্ঘ ৪৪ বছর পর ‘থিয়েটার অফ ড্রিমস’-এ উৎসব করল তারা।
২০০২ সালের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে এটি লিডসের প্রথম লিগ জয়। সোমবার রাতে ম্যাচের শুরুতেই লিডসের হয়ে জোড়া গোল করে নায়ক বনে যান নোয়াহ ওকাফর। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় তার গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা, যা ছিল গত ৫১ দিনে লিগে লিডসের প্রথম গোল। ২৯ মিনিটে ওকাফোরের শট ইউনাইটেড ডিফেন্ডার লেনি ইয়োরোর গায়ে লেগে জালে জড়ায়।
বিরতির পর ৬৯ মিনিটে কাসেমিরোর গোল ম্যান ইউকে লড়াইয়ে ফেরালেও শেষ রক্ষা হয়নি। ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে লিডস এখন টেবিলের কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৯ মৌসুমে যে দলগুলো ৩৬ বা তার বেশি পয়েন্ট পেয়েছে, তারা রেলিগেশন এড়াতে পেরেছে। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ৩৬ পয়েন্ট থাকলে টিকে থাকার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। ৪০ পয়েন্ট নিশ্চিত করলে এই সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ শতাংশে।
ম্যাচ শেষে লিডস ম্যানেজার ড্যানিয়েল ফার্কে বলেন, ‘আমি ক্লান্ত, তবে ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। ৪০ বছর পর এখানে জয় পাওয়াটা অবিশ্বাস্য। এটি আমাদের জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ। তবে আমাদের আরও কিছু পয়েন্ট প্রয়োজন। কিছুই এখনো অর্জিত হয়নি।’
লিডসের এই জয় অন্য দলগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে টটেনহাম হটস্পার এখন সবচেয়ে বেশি রেলিগেশনের শঙ্কায় আছেন। রবার্তো ডি জারবির অধীনেও তারা গত ১৪ ম্যাচে কোনো জয় পায়নি। অপ্টার সুপার কম্পিউটার অনুযায়ী, টটেনহামের রেলিগেশনের সম্ভাবনা এখন ৪৮.৭ শতাংশ। লিডসের সামনে এখন উলভস, বার্নলি, টটেনহাম এবং ওয়েস্ট হ্যামের মতো দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে।



