ভিনিসিয়ুসের ১৬ ব্র্যান্ডের আয়ও হারাবে রিয়াল!

সংগৃহীত ছবি
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রিয়াল মাদ্রিদে থাকবেন তো? ২০২৭-২৮ মৌসুম শেষে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি শেষ হতে যাওয়া এই ব্রাজিলিয়ান তারকা সোমবার প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেননি। নতুন চুক্তি নিয়ে তার প্রতিনিধিরা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২৬ বছর বয়সী এই তারকাকে রিয়াল মাদ্রিদ কোনভাবে কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান বেতন দিতে চায় না। তবে ভিনির আন্তর্জাতিক খ্যাতির কারণে তাকে ছাড়তেও চায় না। আর ভিনির বিশ্বজোড়া খ্যাতির প্রমাণ মেলে তার ঝুলিতে থাকা ১৬টি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের তালিকা থেকে।
এবারের বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০টি স্পনসরশিপ চুক্তি ছিল নেইমারের। ১৬টি ব্র্যান্ডের চুক্তি নিয়ে দুইয়ে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
বিশ্বকাপে ডাক পাওয়ার পর থেকে এসব ব্র্যান্ডের প্রচারণায় ভিনিসিয়ুসের সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা কনটেন্টগুলো ১০০ কোটিরও বেশি ভিউ পেয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ তার আয়ের প্রায় অর্ধেক অংশ পেয়েছে এ থেকে।
স্প্যানিশ দৈনিক ‘এএস’ জানিয়েছে, ২০২২ সালে ভিনিসিয়ুস যখন চুক্তি নবায়ন করেন তখন ইমেজ রাইটস বা ভাবমূর্তি স্বত্বের প্রায় ৫০ শতাংশ রিয়াল মাদ্রিদকে দিতে রাজি হয়েছিলেন। বাণিজ্যিকভাবে তার আয়ের প্রতিটি পয়সার অর্ধেক ভাগ যায় লা লিগার এই পরাশক্তির পকেটে, যা তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আয়ের উৎসে পরিণত করেছে।
স্প্যানিশ পত্রিকাটি তাই রসিকতা করে লিখেছে, ‘অন্তত ক্লাব ও খেলোয়াড়ের নতুন কোন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বার্নাব্যুতে তার নিজের বেতন নিজেই দিচ্ছেন।’
২০১৮ সালে রিয়ালে আসার পর থেকে গ্যাটোরেড, পেপসি, প্রাদা, প্লেস্টেশন, ইউনেস্কো, ভিসা এবং নাইকির মতো বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের সঙ্গে মোটা অংকের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন ভিনিসিয়ুস।এছাড়া বস , ক্লিয়ার, ওমো, রেক্সোনা, বেটনাসিওনাল, দুবাই ট্যুরিজম, হাভাইয়ানাস, ভিভো এবং ম্যারিয়ট বনভয়-এর সঙ্গেও চুক্তি আছে তার।
ভিনির প্রতি আর্সেনালের হঠাৎ আগ্রহ নতুন চুক্তির দরকষাকষিতে তাকে ভালো জায়গায় নিয়ে গেছে। ভিনিসিয়ুসের এজেন্সি ‘রক নেশন স্পোর্টস ব্রাজিল’-এর প্রধান নির্বাহী ফ্রেদেরিকো পেনা স্বীকার করেছেন , তার ক্লায়েন্ট এখন একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সমকক্ষ মর্যাদা অর্জন করেছেন।
পেনা বললেন, ‘বয়স কম হলেও ভিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দলের মূল খেলোয়াড়। সে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন ও সেরা খেলোয়াড় হয়েছে এবং বেশিরভাগ ব্রাজিলিয়ানের কাছে সে অধ্যবসায় ও ক্রীড়া সাফল্যের রোল মডেল। তাছাড়া, মাঠের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতেও সে কখনো পিছিয়ে থাকে না। এ সবকিছুর অর্থ হলো, তার ভাবমূর্তির প্রতি আগ্রহী ব্র্যান্ডের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।"
ফুটবল মাঠে তার বিধ্বংসী প্রতিভা হয়তো রিয়াল মাদ্রিদকে শিরোপার কাছাকাছি নিয়ে যায়, তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রকৃত আর্থিক মূল্য লুকিয়ে আছে মাঠের বাইরে গড়ে তোলা তার এই বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের ভেতরেই। তাকে ছাড়ার অর্থ ১৬ ব্র্যান্ডের আয়ও হারানো। রিয়াল সেটা চাইবে না কোনভাবে।




