আর্সেনালকে হারিয়ে হলান্ড
উই হ্যাভ আ প্ল্যান

লিগে নিজের ২৩তম গোল করেছেন হলান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ম্যানচেস্টার সিটির প্রাণভোমরা আর্লিং হলান্ডের সঙ্গে আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলের লড়াইটা জমেছিল বেশ। একবার মেজাজ হারিয়ে হলান্ডকে ঢুঁস মারার ভঙ্গি করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল। ধাক্কা মারেন হলান্ডও। দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
আরেকবার হলান্ডকে আটকাতে গ্যাব্রিয়েল টেনে ধরেছিলেন হলান্ডের গায়ের জার্সি। এক টুকরো কাপড় চলে যায় তার হাতে। আর ফস্কে যান হলান্ড। এভাবেই আর্সেনালের হাত থেকে মনে হয় ফস্কে গেল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাটা।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে আর্সেনালের ম্যাচকে বলা হচ্ছিল অলিখিত ফাইনাল। সেই ফাইনালে সিটি ২-১ গোলে জিতে জমিয়ে দিল শিরোপা লড়াই। ৩৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭০। ৩২ ম্যাচে সিটির পয়েন্ট ৬৭। হাতে থাকা ম্যাচটা জিতলেই আর্সেনালকে পেছনে ফেলবে সিটি।
জমজমাট এই ম্যাচে ১-১ সমতা থাকার সময় ৬৫ মিনিটে হলান্ডের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সিটি। সেই গোলটাই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। খেলা শেষে উচ্ছ্বসিত হলান্ড ‘বিবিসি’কে বলেছেন,‘দারুণ জয় আমাদের, ভীষণ উপভোগ করেছি। এখন আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। উই হ্যাভ আ প্ল্যান। এটা কাজে লাগিয়ে জিততে হবে পরের ম্যাচগুলো।’
সিটি জিতলেও শিরোপার নির্ধারিত হয়ে যায়নি বলে জানালেন ইংলিশ সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি,‘সিটি জিতেছে তাই বলে শিরোপা জিতে যায়নি। এখনও অনেক নাটক বাকি।’
প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বলের দখলে রেখে গোলের জন্য ১৫ শট নিয়েছিল সিটি। পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। আর্সেনালের ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
১৬তম মিনিটে রায়ান শেরকির গোলে এগিয়ে যায় সিটি। বাঁ পায়ে অসাধারণ ড্রিবলিং করে গ্যাব্রিয়েল ও ডেকলান রাইসকে কাটিয়ে উইলিয়াম সালিবার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
১৮তম মিনিটে জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার শিশুসুলভ ভুলে সমতা ফেরান কাই হাভার্টজ। ৪৪১ দিন পর লিগে গোল পেলেন হাভার্টজ।
বিরতির পর দুটি অসাধারণ সেভ করেন দোন্নারুমা। এরপর ৬৫ মিনিটে হলান্ডের গোলে এগিয়ে যায় সিটি। নিকো ও’রেইলি ও জেরেমি ডকুর তৈরি করা আক্রমণ থেকে রদ্রির জন্য করা ক্রস পান হলান্ড। গ্যাব্রিয়েলের বাধা এড়িয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি। এবারের লিগে এটা তার ২৩তম গোল আর, মৌসুমে সব মিলিয়ে ৩৪টি।
যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে হাভার্টজ গোল মিস করলে ডাগআউটে বসে পড়েন মিকেল আরতেতা। লিগের নিয়তিটা হয়তো বোঝা হয়ে গেছে তার।

