৪১ বছর বয়সেও রোনালদো কেন অপরিহার্য?

বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে খেলে যাচ্ছেন রোনালদো।
বয়স ৪১ ছাড়িয়েছে, কিন্তু মাঠের ফুটবলে তার ধার কমেনি এতটুকু। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত আসরে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ এই মহাতারকা কেন সাধারণ খেলোয়াড়দের চেয়ে আলাদা এবং কেন তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ- সেই রহস্য উন্মোচন করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি ফার্নান্দো হিয়েরো।
আল-নাসরের সাবেক স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিয়েরো মনে করেন, রোনালদোর পেশাদার শৃঙ্খলা এবং অদম্য জেদই তাকে এই বয়সেও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষস্তরে টিকিয়ে রেখেছে। বয়সের কারণে অনেকেই তাকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও রোনালদো তার উত্তর দিচ্ছেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। চলতি মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে ২৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করে দলকে টেবিলের শীর্ষে রেখেছেন সিআরসেভেন।
মিশরের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিয়েরো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস রোনালদো এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই করার ক্ষমতা রাখেন। ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে তিনি যা করে দেখাচ্ছেন, তাতে তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। যতক্ষণ তিনি শারীরিকভাবে ফিট আছেন, ততক্ষণ তিনি পর্তুগালের সম্পদ।’
রোনালদোর ফিটনেসের পেছনের মূল কারণ হিসেবে তার কঠোর নিয়মানুবর্তিতার কথা উল্লেখ করেন হিয়েরো, ‘রোনালদোর সাথে কাজ করা মানে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আমরা কেবল একজন বড় মাপের খেলোয়াড় নিয়ে কথা বলছি না, বরং পেশাদারিত্বের এক অনন্য উদাহরণ নিয়ে কথা বলছি। তার বিশেষ গুণ হলো ফুটবলের প্রতি অফুরন্ত আবেগ। এতসব অর্জনের পরও তার গোল করা এবং জয়ের ক্ষুধা সেই আগের মতোই আছে।’
আগামী ১৭ জুন হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। গ্রুপ কে-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত এই বিশ্বমঞ্চে বর্তমান ফর্ম এবং নেতৃত্বের গুণে রোনালদোই হতে যাচ্ছেন পর্তুগালের আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র।

