বিশ্বকাপ
আর্জেন্টিনাকে সতর্ক করলেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা

সংগৃহীত ছবি
১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। দলে ছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী অনেক তারকা। কিন্তু সেই আসরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে আবারও যেন সেই দুঃস্মৃতি ফিরে আসছে। এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ড্যানিয়েল বার্তোনি।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোনি সতর্ক করে বলেছেন, কাতার বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নকে বিপদে ফেলতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দলে অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ ২০২২ সালের স্কোয়াডের ১৭ জন খেলোয়াড় রয়েছে। তবে বার্তোনির মতে, অতীতের সাফল্যের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে তা হবে বড় ভুল।
বার্তোনি বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা অবশ্যই শিরোপার দাবিদার। আমরা ছয়টি ফাইনাল খেলেছি এবং তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছি। কিন্তু শুধু নাম আর অতীতের অর্জনের কারণে আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাব, এমনটা ভাবা ভুল হবে।‘
বার্তোনি আরও জানান, ‘সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে যদি স্কালোনি চার বছর আগে বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেন।‘
১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে একটি গোল করেছিলেন বার্তোনি। পরে ১৯৮২ বিশ্বকাপেও তিনি আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন, যেখানে ম্যারাডোনাকে নিয়েও হতাশাজনকভাবে দ্রুত বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে।
মেসিকে নিয়ে বার্তোনি বলেছেন, ‘সে এখনো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। কিন্তু তার বয়স প্রায় ৪০ ছুঁইছুঁই, তাই তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। সে আর ক্লাব পর্যায়ে আগের সর্বোচ্চ ছন্দে নেই। পাশাপাশি ২০২২ বিশ্বকাপে মেসির অন্যতম সেরা সঙ্গী ডি মারিয়াকেও এবার পাওয়া যাবে না।’
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার চাপ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বার্তোনি বলেছেন, ‘এই চাপ বিশাল। সবকিছু নির্ভর করে দলের অবস্থা এবং কোচ কীভাবে দুটি বিষয় সামলাচ্ছেন তার ওপর— একদিকে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে সেই মর্যাদা ধরে রাখতে হলে নতুন করে লড়াই করতে হবে।’
সবশেষে ১৯৮২ সালের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেছেন, ‘তখন আমরা ভেবেছিলাম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে, ম্যারাডোনা ও নতুন কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে আবারও জিততে পারব। কিন্তু বিশ্বকাপ সবসময় কঠিন, কারণ এখানে সবাই জিততে চায়।‘






