ম্যারাডোনা-মেসির সঙ্গে খেলা ফুটবলার বিক্রি করছেন সবজি!

গনসালো ওলিদ আপাসা খেলেছেন আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলে। ছবি: সংগৃহীত
গনসালো ওলিদ আপাসা আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। রিভার প্লেটের উদীয়মান এই ফুটবলার সতীর্থ ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেসের। অনুশীলন করেছেন লিওনেল মেসির সঙ্গে আর ডিয়েগো ম্যারডোনার কোচিংয়ে। কিন্তু ফুটবলে আগ্রহ হারিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল ছেড়ে দেন আপাসা। এখন তিনি বিক্রি করছেন শাকসবজি!
আপাসা আর্জেন্টিনার যুব জাতীয় দলে খেলেছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেসের সঙ্গে। ছিলেন রিভার প্লেটের অন্যতম সম্ভাবনাময় যুব দলের সদস্যও। তবে খুব কম বয়সেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে তিনি শুরু করেন রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার, আলু ও শাকসবজি সরবরাহের কাজ।
মাত্র ১২ বছর বয়সে এই মিডফিল্ডার রিভার প্লেটে যোগ দেন এবং অনুশীলনের জন্য প্রতিদিন সান মিগুয়েল থেকে যাতায়াত করতেন। ’৯০ দশকের সেই যুব দলে তার সতীর্থ ছিলেন এরিক লামেলা, এসেকিয়েল চিরিলিয়ানো, লেয়ান্দ্রো গঞ্জালেস পিরেস এবং রদ্রিগো রে-র মতো তারকা ফুটবলাররা। যুব পর্যায়ের দলটিতে তারা পাঁচটি শিরোপা জিতেছিলেন। তবে রিভার প্লেটের মূল একাদশে নিজের জায়গা পাকা করতে না পেরে আপাসা নিচু সারির লিগগুলোতে খেলার সুযোগ খুঁজতে থাকেন।
অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলেছেন আপাসা।
আপাসার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দরজাও খুলে দিয়েছিল। তিনি খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলে। ২০০৯ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপে তিনি এমিলিয়ানো মার্তিনেসের সঙ্গে একই দলে খেলেন। 'ইনফোবে'-কে সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতি মনে করে আপাসা বলেছেন, ‘ এখন এমিলিয়ানোর যে আত্মবিশ্বাস দেখছেন, তখনও ঠিক একইরকম ছিল। আজ ও যা যা অর্জন করেছে, তাতে আমি মোটেও অবাক হইনি।’
নাইজেরিয়া বিশ্বকাপের আগে সেই যুব দলের খেলোয়াড়দের সিনিয়র জাতীয় দলের 'স্পারিং পার্টনার' (অনুশীলন সঙ্গী) হিসেবে ব্যবহার করা হতো। দলটির তখনকার কোচ ছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। প্রতি বুধবারে তারা অনুশীলন করতেন লিওনেল মেসি এবং দলের অন্যান্য তারকাদের সঙ্গে।
এ নিয়ে আপাসা বললেন,‘ম্যারাডোনা নিজেই ম্যাচের রেফারির দায়িত্ব পালন করতেন। আমরা মেসির সঙ্গে খেলেছি, বড় বড় সব তারকা ফুটবলাররা সেখানে ছিলেন। অনুশীলনের মাঝখানেই আমার মন চাইত ম্যারাডোনাকে জড়িয়ে ধরি। বিশ্বাসই হচ্ছিল না, মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমাকে চিমটি কেটে বাস্তবটা জানিয়ে দিক।’ আর মেসিকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘মেসি হাফ স্পিডে খেলত, তবুও মনে হতো সে যেন নিজের ১০০ শতাংশ দিয়ে খেলছে।’
খেলেছেন রিভার প্লেটের যুব দলে।
রিভার প্লেটে সুযোগের অভাবে আপাসা দেপোর্তিভো মেরলো, দেফেন্সোরেস দে বেলগ্রানো, কামবাসেরেস এবং সান মিগুয়েলের মতো ক্লাবে খেলেন। সেই সময়টা তার জন্য বেশ ধাক্কার ছিল,‘আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা এবং বড় ক্লাব রিভার প্লেট থেকে আমি যখন মেরলোতে গেলাম, সেখানে মাঝে মাঝে অনুশীলনের পোশাক কিংবা গরম পানির সুব্যবস্থাও থাকত না। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে, কামবাসেরেসের হয়ে একটি ম্যাচ খেলার পর বাবাকে ফোন করে জানাই পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছি। আমি খেলাটা উপভোগ করছিলাম না। অনুশীলন শেষ হলেই যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ফিরে আসতে ইচ্ছে করত।’
খেলা ছাড়ার পর তার প্রথম কাজের সুযোগ আসে এক বন্ধুর হাত ধরে, যে পানির জার সরবরাহ করত। সকাল ৫টা থেকে সেই কাজ শুরু করতে হতো। এরপর ফুটবল খেলে জমানো টাকা দিয়ে তিনি একটি ট্রাক কেনেন এবং তাদের পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন।
বর্তমানে আপাসা শাকসবজির ডেলিভারি সার্ভিস চালান, যা পাইকারি বাজার, বার ও রেস্তোরাঁগুলোতে আলু, পেঁয়াজসহ অন্যান্য শাকসবজি সরবরাহ করে। নিজের জীবন নিয়ে আপাসা এখন সন্তুষ্ট, ‘আমি ফুটবল খেলা কখনো থামাইনি, শুধু পেশাদার হিসেবে খেলা ছেড়ে দিয়েছি। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি আজ সত্যিই খুব সুখী।’





