একে একে সব তারকাকে হারাচ্ছেন আনচেলত্তি

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
মিশন হেক্সা সফল করতে আগের সব রেকর্ড ভেঙে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল ব্রাজিল। সেলেসাওদের প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে হলুদ জার্সিদের ডাগ-আউট সামলাবেন কার্লো আনচেলত্তি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অবশ্য একের পর এক ধাক্কায় টালমাটাল আনচেলত্তির দল। চোটে জর্জরিত ব্রাজিলের জন্য তাকে হয়তো নতুন করেই পরিকল্পনা সাজাতে হতে পারে।
বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ৪৪ দিন। চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা হবে ২০ দিন পর। যেখানে বিশ্বকাপের একাদশ নিয়ে ছক কষার কথা, সেখানে মূল স্কোয়াড নির্বাচন নিয়েই আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ। কিপিং, রক্ষণ, মাঝমাঠ কিংবা আক্রমণভাগ—আনচেলত্তির দুশ্চিন্তা তো শুধু একদিকে নয়! প্রতিনিয়তই আসছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের চোট ও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার খবর।
দলের মূল কিপার আলিসন বেকার পুরোপুরি সুস্থ নন। লিভারপুলের পক্ষ থেকে যদিও বলা হচ্ছে, বিশ্বকাপে ফুল ফিট আলিসনকে পাবে ব্রাজিল। তবে আনচেলত্তির চিন্তা কাটছে না। আলিসনের বিকল্প হিসেবে তাই এবার ব্রাজিলের গোলপোস্ট সামলাতে পারেন এডারসন।
ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ব্যর্থতার পর রক্ষণের দুর্বলতা আলাদা করে ভাবাচ্ছে ব্রাজিলকে। রক্ষণ নিয়ে আনচেলত্তির দুশ্চিন্তা বেড়েছে এদার মিলিতাওয়ের ইনজুরির পর। চোটের কারণে এই বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না দলের অন্যতম সেরা এই ডিফেন্ডার।
মাঝমাঠে যে তরুণ ফুটবলারকে ভাবা হচ্ছিল নেইমারের বিকল্প, সেই এস্তেভাওয়ের বিশ্বকাপে খেলাও অনিশ্চিত। চেলসির এই তরুণ তুর্কির সেরে ওঠার অপেক্ষায় আনচেলত্তি। অন্যদিকে নেইমারকে নিয়ে নাটক চলছে আনচেলত্তির কোচ হওয়ার আগে থেকেই।
চোটে জর্জরিত ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগোর। আরেক তরুণ ফুটবলার ভিক্তর রকিকেও বিশ্বকাপে পাচ্ছে না ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস-রাফিনহাদের ওপর তাই চাপটাও থাকবে খানিকটা বেশি। রক্ষণাত্মক না আক্রমণাত্মক, কেমন ফুটবল খেলবে ব্রাজিল? ‘জোগো বনিতো’ যদি দেখাতে হয়, গোল খাওয়ার শঙ্কাটা থেকেই যাবে। যদি রক্ষণ সামলাতেই মনোযোগ দেয়, গোল না পাওয়ার হতাশায় ডুবতে হতে পারে!
আনচেলত্তির সামনে তাই কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। ব্রাজিলের মিশন হেক্সার স্বপ্নসারথিরা কি পারবেন ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে? নাকি এবারও খালি হাতেই ফিরতে হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সফলতম দলকে?





