খালে বাঁধ
স্বল্প বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামের কয়েক স্থানে দিনভর হাঁটুপানি

নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়ক থেকে তোলা ছবি
বৈশাখের স্বল্প বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। বৃষ্টি থামার পরও নামেনি পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব এলাকায় পানি জমেছে, সেখানে খাল সংস্কারের কাজ চলছে। খালে বাঁধ থাকায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে। সোমবার বিকাল ৫টায়ও নগরীর কয়েকটি এলাকায় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প বৃষ্টিতে নগরীর মুরাদপুর, মোহাম্মদপুর, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ বৌদ্ধ মন্দির ও জাতিসংঘ পার্ক এলাকায় পানি ওঠে।
সকাল ৯টায় নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। এতে নগরীর প্রধান সড়ক সিডিএ অ্যাভিনিউ দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পানি সড়কের পাশে দোকানেও ঢুকে পড়ে। বেলা ১১টার দিকে পানি নেমে গেছে।
‘সকালের বৃষ্টিতে রাস্তা উপচে দোকানেও পানি ঢুকে গেছে। দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। কয়েকজন দোকানদার মিলে খালে গিয়ে দেখি বাঁধ দেওয়া। যার কারণে পানি নামতে পারছে না। বর্ষায় বাঁধগুলো কেটে না দিলে ভয়াবহ অবস্থা হবে’— বলছিলেন মোহাম্মদপুর এলাকার সবুজ মেলা নার্সারির মালিক মো. তৌহিদ।
বিকাল ৪টার দিকে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, হাঁটুপানি জমে আছে। লোকজন রিকশায় পারাপার করছেন। কেউ পরনের কাপড় গুটিয়ে যাতায়াত করছেন। নারী পথচারীদের দুর্ভোগ ছিল বেশি।
সড়কটির পাশে সরকারি অফিসার্স অ্যাপার্টমেন্ট চামেলি। এখানকার তত্ত্বাবধায়ক মো. সেলিম জানালেন, পাশে হিজড়া খালের সংস্কার কাজ করার কারণে প্রতিদিন পানি ওঠে। আজকে বৃষ্টি হওয়ায় বেশি উঠেছে। অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য রাস্তা ৪০ থেকে ৫০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে পার হতে হচ্ছে লোকজনকে।
নগরীর ৩৬টি খাল ঘিরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রকল্পটির আওতায় নগরের হিজড়া খাল, মির্জা খাল ও জামালখান খালে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণকাজ চলছে। এজন্য খালের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না রাখায় প্রতিদিন সড়কে পানি জমে। সকালে বৃষ্টির পানি যুক্ত হওয়া সড়কে পানির উচ্চতা বেড়েছে।
‘প্রকল্পটির কাজ করছে সেনাবাহিনী। সড়কে পানি জমে থাকায় সিটি করপোরেশনের দুর্নাম হচ্ছে। বিষয়টি তাদের জানিয়েছি, যাতে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়’— জানালেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব শর্মা।



