বজ্রপাতে আজও থামল ৮ প্রাণ, দুদিনে বেড়ে ২২

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে এক দিনেই কমপক্ষে মৃত্যু হয়েছে আটজনের। আজ সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও নোয়াখালীতে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন রবিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। ফলে দুদিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে।
আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে—
সুনামগঞ্জে মৃত্যু ৩
সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে জেলার পৃথক স্থানে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিনের (৪৬) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়। একই সময় সদর উপজেলার হাওরের অন্য একটি স্থানে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামে আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আরও তিন কৃষক আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনায় প্রাণ গেল ৩
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়। সকালে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
একই দিনে সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক। এ ছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় মো. শুভ মণ্ডলের। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়।
খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতেই মৃত্যু হয়েছে।’
মায়ের সামনেই প্রাণ গেল যুবকের
নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মায়ের চোখের সামনেই মৃত্যু হয়েছে মো. আরাফাত হোসেন (২০) নামে এক তরুণ ব্যবসায়ীর। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আরাফাত স্থানীয় বাজারে কসমেটিকস ব্যবসা করতেন। তিনি তার মা শায়েলা আক্তারের সঙ্গে বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে বাদাম সংগ্রহ করতে যান। বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ইউপি সদস্য রাশেদ উদ্দিন বলেছেন, ‘মা সামনে ছিলেন, ছেলে পেছনে। হঠাৎ বজ্রপাতে মায়ের চোখের সামনেই ছেলেটি প্রাণ হারায়।’
হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
হবিগঞ্জে মৃত্যু ১
হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝড়ের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আরও দুইজনের।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেছেন, ‘মৃত মকসুদ মিয়ার পরিবার দরিদ্র। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মৃতরা হলেন- চুনারুঘাট উপজেলার ছনখলা গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক সায়েদ আলী (৫০), বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া বটেরহাটি এলাকার আব্দুস সালাম (৬৫) এবং নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ আলী (৫০)।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিকেলে যাত্রীবিহীন সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় ঝড়ে সেটি উল্টে গেলে চালক সায়েদ আলী নিচে পড়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, ঝড়ের সময় হাওর থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মকসুদ আলী। তার পরিচয় শনাক্ত করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগের দিন রবিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে মারা গেছেন একজন করে।



