আদানির বন্ধ ইউনিট চালু, বাড়ল বিদ্যুৎ সরবরাহ

সংগৃহীত ছবি
ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিট আবার চালু হয়েছে। ফলে এখন দুই ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বাংলাদেশে।
আজ সোমবার রাত পৌনে ৮টা থেকে কেন্দ্রটির বন্ধ ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হতে থাকে।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ২২ এপ্রিল হঠাৎ একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন দুই ইউনিট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর ২টার দিকে উৎপাদন এক ধাক্কায় কমে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমে আসে, যা গ্রিডে চাপ তৈরি করে।
পিডিবি ও আদানির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঘটনার সময় ইউনিটটির একটি বেয়ারিং থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা সতর্কসংকেত পেয়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করে দেন। পরে ত্রুটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। আমদানি করা বিদ্যুৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর হয়ে যুক্ত হয় জাতীয় গ্রিডে।
২০২৩ সালের মার্চে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে যুক্ত হয়।
বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির ৬৮৮ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে বলে দাবি আদানি। এ পাওনা দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, দীর্ঘদিনের বকেয়া না মেটালে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
গত ১৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো চিঠিতে আদানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রণব আদানি এই হুমকি দেন।
তবে এই পাওনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আদানি কয়লার দাম বেশি ধরে বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দাবি করে। এ বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বিষয়টি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে সালিশ পর্যায়ে রয়েছে। পাওনার ৬৮৮ মিলিয়নের মধ্যে ৩৯৩ মিলিয়ন ডলারকে বিতর্কহীন হিসেবে উল্লেখ করেছে আদানি।



