ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ঠেকাতে ‘ট্রেড বাজুকা’ চায় ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা

সংগৃহীত ছবি
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকির পর যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আদলে ‘ট্রেড বাজুকা’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা।
ব্রিটিশ চেম্বারস অব কমার্স বলছে, যুক্তরাজ্যের ‘অপর্যাপ্ত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা’ প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে ফেলছে ঝুঁকিতে। বছরের পর বছর অবহেলার কারণে ব্যবসাগুলো বৈশ্বিক ধাক্কার মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দেন, মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর প্রভাব ফেলা ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স বাতিল না করলে যুক্তরাজ্যের ওপর আরোপ করা হবে ‘বড় শুল্ক’।
নতুন এক প্রতিবেদনে মন্ত্রীদের এমন আইন আনার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ চেম্বারস অব কমার্স, যাতে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা, বিনিয়োগ যাচাই কঠোর করা এবং ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অর্থনৈতিক জবরদস্তির হুমকি মোকাবিলায় সরকারের অস্ত্রাগারে একটি ‘ট্রেড বাজুকা’ যুক্ত করতে হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন একটি ব্যবস্থা ইতিমধ্যে রয়েছে, যাকে বলা হয় অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট। এর মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, সরকারি ক্রয়, আর্থিক বাজার, সম্পত্তির অধিকার এবং বিদেশি বিনিয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে ইইউ৷
ব্রিটিশ চেম্বারস অব কমার্সের মহাপরিচালক শেভন হ্যাভিল্যান্ড বলছিলেন, ‘যুক্তরাজ্যের অপর্যাপ্ত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা ও জাতীয় শক্তির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে; অথচ বিষয়টি এখনো পাচ্ছে না প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও জরুরি মনোযোগ।’
ইউরোপীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী ভূমিকা, প্রতিরক্ষা ক্রয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বেশি অংশগ্রহণ এবং নতুন অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট বলছিলেন, প্রতিবেদনে যথার্থভাবেই বলা হয়েছে, ‘মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্য যুক্তরাজ্যের সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।’
তার ভাষ্য, ইতোমধ্যে শিল্পকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ খাত শনাক্ত, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং কূটনীতি ব্যর্থ হলে ‘শেষ অবলম্বন হিসেবে’ ব্যবহারের মতো সরঞ্জাম বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় একক বাণিজ্য অংশীদার; ব্রিটেনের বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানিগুলোর যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ ৬৪০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি।



