আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পাকিস্তানের হামলা’, নিহত ৪

সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের ছোড়া মর্টার ও রকেট হামলায় আফগানিস্তানে আজ সোমবার চারজন নিহত এবং আরও ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তালেবান সরকার। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় তৈরি হয়েছে নাজুক শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা।
তবে এই অভিযোগকে ‘স্পষ্ট মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিত্রাত জানান, কুনার প্রদেশের আসাদাবাদে বসতবাড়ি ও সৈয়দ জামালউদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য করে চালানো হয় এই হামলা। আহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী, নারী ও শিশু রয়েছে।
তিনি এক পোস্টে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের সামরিক শাসনের এই হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। সাধারণ মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একাডেমিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে— এটি ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধাপরাধ।’
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো হামলা চালানো হয়নি এবং এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও ভুয়া’।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে, যখন পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায় এবং দাবি করে, সেগুলো ছিল জঙ্গি ঘাঁটির ওপর হামলা।
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কাবুল তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়। তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের ভেতরের সশস্ত্র তৎপরতা তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
গত মাসে কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে তালেবান দাবি করেছিল। যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে জানিয়েছিল, তারা ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে চালিয়েছে হামলা।
জাতিসংঘের সহায়তা মিশন জানিয়েছিল, সে ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৪৩ জন।
দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করা চীন জানায়, উরুমকিতে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় উভয়পক্ষ সংঘাতের একটি বিস্তৃত সমাধান খুঁজে দেখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
উরুমকি আলোচনার পর বড় ধরনের সংঘর্ষ কিছুটা কমে এলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে ছোটখাটো সংঘর্ষের। গত ১৮ এপ্রিল পাকিস্তানের বাজাউর অঞ্চলে আফগান বাহিনীর মর্টার হামলায় তিনজন নিহত হয় বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।



