মেসির উপকার করতে গিয়ে মহাবিপদে পড়েছিলেন পচেত্তিনো

মেসি আর পচেত্তিনো— দুজনেই যখন পিএসজিতে ছিলেন।
পিএসজিতে থাকাকালে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। ওই সময় পিএসজিতে খেলা লিওনেল মেসিকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি নিজেই পড়েছিলেন বিপদে। ২০২১ সালে অলিম্পিক লিঁওর বিপক্ষে একটি ম্যাচে মেসিকে বদলি করার পর যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি, সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেটিই তুলে ধরেন পচেত্তিনো।
গ্যারি নেভিলের ‘স্টিক টু ফুটবল’ পডকাস্টে পচেত্তিনো জানান, সেই ম্যাচে মেসির হাঁটুতে কিছুটা অস্বস্তি ছিল। সামনে চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং কাতার বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই মেসিকে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। পচেত্তিনো বলেন, ‘আমি আসলে তাকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। আমার ভয় ছিল, কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে সে যদি চোটে পড়ে, তবে সেটির প্রভাব বিশ্বকাপের ওপরও পড়তে পারে।’
চমকে দিলেন ‘মালিক’ মেসি
০১ মে ২০২৬
মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ক্লাবের তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দোও সহজে মেনে নিতে পারেননি। পচেত্তিনো জানান, ম্যাচের পর লিওনার্দো তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? লিওনার্দোর যুক্তি ছিল, দর্শক পুরো ৯০ মিনিট মেসির খেলা দেখার জন্যই টাকা খরচ করে মাঠে আসেন।
তবে ৫৪ বছর বয়সী পচেত্তিনোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি অপেক্ষা করছিল তার বাড়িতে। ম্যাচ শেষে বাড়ি ফিরতেই তার স্ত্রী বলে বসেন, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সে এই সিদ্ধান্তের জন্য তাকে তুলোধুনো করা হচ্ছে। পচেত্তিনো বলেন, ‘আমার স্ত্রী বলেছিল, আর্জেন্টিনায় এখন তারা তোমাকে ছিঁড়ে ফেলছে, ফ্রান্সেও একই অবস্থা!’
সাক্ষাৎকারে পচেত্তিনো স্বীকার করেন, মেসিকে মাঠ থেকে তোলার আগে তার মতামত না নেওয়াটা হয়তো ভুল ছিল। গ্যারি নেভিল মন্তব্য করেন, মেসি এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে তুলে নেওয়ার আগে মতামত নেওয়া প্রয়োজন। পচেত্তিনো পাল্টা উত্তরে বলেন, ‘আমি অন্য কোচদের চেয়ে নিজেকে বেশি সাহসী প্রমাণ করতে চাইনি। ওই মুহূর্তে তার ভালোর জন্যই আমার কাছে সিদ্ধান্তটি সঠিক মনে হয়েছিল।’
আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকাকে নিয়ে সামান্য সিদ্ধান্তও যে বিশ্বজুড়ে কতটা আলোড়ন তুলতে পারে, পচেত্তিনোর এই গল্প তারই প্রমাণ।





