পরিশ্রম বিশ্বাস বুদ্ধিমত্তায় ফর্টিসের সাফল্য

ফর্টিসের এই সাফল্যের রহস্য কী? কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার এক কথায় দিলেন উত্তরটা- ‘সবার পরিশ্রম, জয়ের বিশ্বাস আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে মিলেছে এই সাফল্য।’ এরপর সবিস্তারে বললেন, ‘একটা যুদ্ধে যখন যাচ্ছেন বা একটা ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন, সেটা যে ম্যাচই হোক, আপনার কোথায় কোথায় সুযোগ আছে, সেগুলো বের করে কাজে লাগানোই একজন কোচের মূল দায়িত্ব। সুযোগগুলো যদি সময়মতো না নেন, তবে আপনাকে পস্তাতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি ওই সুযোগগুলা নিতে। আগেই মনে হয়েছে ওদের সঙ্গে ৩টায় ম্যাচ খেলা একটা বড় সুযোগ দিতে পারে। কারণ শীত প্রধান দেশ থেকে এসেছে, মাঠেই দেখেছেন ওদের কী অবস্থা হয়েছিল।’
মধ্য এশিয়ার শীতপ্রধান দেশ কিরগিজস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডকে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টে অভিষেকটা জয়ে রাঙিয়েছে কায়সারের দল। কিংস অ্যারেনায় মোহাম্মদ ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে প্রিলিমিনারির বাধা পেরিয়ে দলটি পৌঁছেছে গ্রুপ পর্বে। এই জয়ের নেপথ্যের কারণ জানতে কায়সার বললেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা অনেকগুলো সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। অনেকগুলো সুযোগ প্রথমার্ধে ওপেন হয়েছিল। প্রথম থেকেই আমি চেষ্টা করেছি অ্যাটাকিং ফুটবল খেলাতে। কার বিশ্বাসটা আমার মধ্যে প্রথম থেকেই ছিল। শুরুতে হয়ত খেলোয়াড়দের সে বিশ্বাসটা ছিল না। তবে সময়ের সাথে সাথে ওরা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এই দলকে হারানো সম্ভব। আমি ওদের আগেই বলেছি, আমরা পরিকল্পনা মতো খেলবো, জয়ের চেষ্টা করবো, বাকিটা আল্লাহর হাতে। ভাগ্য আমাদের সহায় হয়েছে। ওদের পেনাল্টি মিস হয়েছে। তাছাড়া ম্যাচ সিচুয়েশন ছিল বেশ কঠিন। মাঠের নিচের মাটি ছিল নরম আর উপরে গরম। এরকম অবস্থায় ছেলেরা ওদের সেরাটা দিয়েছে।’
এ ম্যাচের নায়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। আবাহনী থেকে ধারে এসে ফর্টিসকে গ্রুপ পর্বে পৌঁছে দেওয়া এই অভিজ্ঞ উইঙ্গার। গত বছর আবাহনীর জার্সিতে যা পারেননি, সেটাই আজ অন্য দলের হয়ে করলেন। তবে মাঠে কখনই নিজেকে কোনো ক্লাব দলের মনে করেননি ইব্রাহিম, জানালেন বাংলাদেশের হয়েই খেলতে নেমেছিলেন তিনি- ‘আসলে ফর্টিস না, জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে মনে করেছি দেশের হয়েই খেলছি। এখানে ফর্টিস বা আবাহনী থেকে লোনো আসছি, এসব কিছুই মানে রাখে না। আমাদের জার্সিতে বাংলাদেশের পতাকা ছিল, এর জন্যই খেলেছি। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এর আগেও গোল করেছি। এটি সেরা গোল নয়, তবে এই ম্যাচ ও মুহূর্তটার গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশি। কোচ আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে বলেছিলেন। আমি সেই বিশ্বাস রেখেই নিজের সেরাটা উজাড় করে খেলেছি।’
গ্রুপ পর্ব নিশ্চিত হওয়ার পর এখন চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব দুটোই বেড়েছে ফর্টিসের। সামনের পরীক্ষা উতরে যেতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে শুরু করেছেন ক্লাবটির সভাপতি শাহীন হাসান, 'আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, ঠিক সেভাবে খেলেই সফল হয়েছি। এখন গ্রুপ পর্বের চ্যালেঞ্জটাও জিততে চাই। খুব চেষ্টা করবো গ্রুপ পর্বের স্বাগতিক হতে এবং এই দলটাকে ধরে রাখারও লক্ষ্য থাকবে। বিদেশি কোটায় একটা সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও কীভাবে সবাইকে রাখা যায়, সে পরিকল্পনা করছি আমরা।’
অন্যদের পথে না হেঁটে নিজের মতোই ধীরে ধীরে ফর্টিস বড় দলে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইছে। সেই পথচলায় এই জয় তাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা।




