মিরাজের সঙ্গে কথা বলেই তামিমের সিদ্ধান্ত
মিরাজকে সরিয়ে ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন

মিরাজের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিমের। ছবি: মোশারফ হোসেন
২০২৫ শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর নাজমুল হোসেন শান্ত নেতৃত্ব হারিয়েছিলেন। ওই সময় তাকে না জানিয়েই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। টেস্ট নেতৃত্ব হারানোর ক্ষোভে ওয়ানডে নেতৃত্ব শান্ত নিজেই ছেড়ে দেন। পরে সেই শান্তর কাছেই ফিরে যায় বিসিবি। এবং এখনো তিনিই টেস্ট অধিনায়ক।
মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকে সারিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এমন ভুল ছিল না। তামিম ইকবাল বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন মিরাজের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। শুধু মিরাজ নন, নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাসের সঙ্গেও পরিষ্কার আলোচনা হয়েছে বলে জানালেন বিসিবি প্রধান।
অবশ্য মিরাজের নেতৃত্ব ছাড়ার পেছনে আছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নেতৃত্বের সমালোচনা। তার ক্রিকেটার হিসেবে পড়তি পারফরম্যান্সের একটা প্রভাব ছিল বলে মেনে নেন তামিম। তাই বলে মিরাজের সঙ্গে আলোচনা না করেই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট মিরাজকে দলের মূল সদস্য হিসেবেই দেখছে বলে জানান সভাপতি।
মিরাজকে নিয়ে দলের সামনের পরিকল্পনার কথা তামিম জানিয়েছেন এভাবে, ‘বাইরের আলোচনা একজন ক্রিকেটারের মনে অবশ্যই প্রভাব ফেলে। মিরাজ অধিনায়ক হিসেবে ভালো করেছে। তবে আমার বিশ্বাস, অধিনায়কের চেয়ে ক্রিকেটার হিসেবে সে দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে। সে সফল অধিনায়ক ছিল, এখন ওর পারফরম্যান্স আরও ভালো হবে।’
নেতৃত্ব পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে বলে জানান তামিম, ‘সবার সঙ্গে, বিশেষ করে অধিনায়কদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমরা আলোচনা করেই সবাই একমত হয়েছি।’
লিটন দাসকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেন তামিম, ‘লিটনের নেতৃত্ব গুণে আমরা মুগ্ধ। যেভাবে সে খেলাটাকে দেখে, পরিকল্পনা করে, সেটি আমাদের ভালো লেগেছে। ওয়ানডেতে সে অনেক বছর ধরে খেলছে। তার অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেট-জ্ঞান বিবেচনা করেই তাকে অধিনায়ক করা হয়েছে।’
একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিন সংস্করণে একজন অধিনায়ক রাখার প্রচলিত ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তামিম, ‘আমাদের তিন ফরম্যাটে একজন অধিনায়কের ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আগের বোর্ড তাদের চিন্তা অনুযায়ী অধিনায়ক পরিবর্তন করেছে। আমি আমার চিন্তা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বিশ্বাস, সাদা বল ও লাল বলের জন্য আলাদা অধিনায়ক থাকলে ভালো। তাহলে প্রতিটি সংস্করণের জন্য একজন অধিনায়ক নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারবেন।’






