এশিয়ান গেমস
ব্যর্থতা মেনে জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন সালাউদ্দিন

সংগৃহীত ছবি
স্বপ্ন ছিল সোনা জয়। পাকিস্তানের কাছে সেমিফাইনাল হেরে সোনা-রূপা দুইয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই। বেঁচে ছিল ব্রোঞ্জের আশা। শ্রীলংকার কাছে ৬৩ রানের বড় হারে সেই আশাতেও গুড়েবালি। খালি হাতে এশিয়ান গেমস থেকে ফেরার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানালেন, দেশবাসীর কাছে লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী তারা।
এশিয়ান গেমস ইতিহাসে এই প্রথম ছেলেদের ক্রিকেট ইভেন্টে পদকহীন থাকল টাইগাররা। নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্কে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০২ রানেই গুটিয়ে যান লিটন দাসরা।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সালাউদ্দিন জানান, ‘সত্যি বলতে আমরা দেশবাসীর কাছে আসলে খুবই লজ্জিত। কোচ হিসেবে আমি মনে করি যে, আমরা ফেইল করছি। দেশবাসীর কাছে যেটা প্রত্যাশা করছিলাম, সেখানে আমরা কিছু করতে পারি নাই। খুবই হতাশাজনক। পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।’
দলের এমন ব্যর্থতার কারণটা আসলে কী? সালাউদ্দিন জানালেন নিজের মতামত, ‘ক্রিকেটাররা তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেম প্ল্যান ঠিকমতো এক্সিকিউট করতে পারিনি। আমাদের প্রিমিয়াম বোলাররা উইকেটে যেরকম বল করার আশা করেছিলাম, সেটা করতে পারেনি। স্পিনাররা খুবই ভালো বল করেছে।‘
ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা নিয়ে সালাউদ্দিন বলছেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমরা খুব তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আজকে প্রথমেই পাওয়ারপ্লেতে চার-পাঁচটা উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। তখন আসলে এখান থেকে ম্যাচ বের করাটা খুব কন। কারণ অন্যান্য দলের মতো আমাদের খুব বেশি অলরাউন্ডার নেই।’
তবে ১৬৫ রান তাড়া করা অসম্ভব ছিল না বলেও মনে করেন কোচ, ‘অবশ্যই সম্ভব। আমি মনে করি এই উইকেটে আসলে সম্ভব ছিল।’
অধিনায়ক লিটন দাসের পারফরম্যান্স ও নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অধিনায়ককে এককভাবে দায়ী করতে নারাজ কোচ, ‘তারা দেশের জন্য সবসময়ই লড়াই করে। তারা ফেইল করেছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। আমরা কীভাবে এটা প্রসেসে ঠিক করা যায়, সেটা নিয়ে চেষ্টা করব। আমরা দল হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’
এশিয়ান গেমসকে ক্রিকেটাররা হালকাভাবে নিয়েছিলেন, উঠেছে এমন অভিযোগ। কোচ অবশ্য সেটাকে দলের মনোযোগের অভাব হিসেবে দেখতে নারাজ, ‘আমি কখনোই বলব না যে প্লেয়ারদের খেলার প্রতি ইচ্ছা ছিল না। এখানে সবাই দেশের জন্য খেলতে এসেছে।‘
সালাহউদ্দিন শেষে শোনালেন আশার বাণী, ‘আমি এখানে অনেক হতাশ। সবার মধ্যেই হতাশা আছে। সবাই এখানে জেতার জন্য এসেছিলাম, একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম। সেখানে আমরা ফেইল করেছি, ভালো খেলিনি। আশা করব ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো খেলবে।’



