আইপিএলে ৯ হাজার রান করে বিরাট কোহলির ইতিহাস

সংগৃহীত ছবি
সাফল্য আর ব্যর্থতার দোলাচলে কেটে গেছে দীর্ঘ ১৮টি বছর। অবশেষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (আরসিবি) শিরোপা জিতিয়ে বিরাট কোহলি যেন এক অন্য মানুষ। গতরাতে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএল ক্যারিয়ারে ৯ হাজার রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ভারতের ব্যাটিং কিং। এদিন ক্রিকেট বিশ্ব দেখছে এক নতুন কোহলিকে, যিনি আন্তর্জাতিক চাপের শিকল ভেঙে খেলছেন কেবল আনন্দের জন্য।
২০২৩ সালের ১৮ মে থেকে এখন পর্যন্ত ৪০টি আইপিএল ইনিংসে কোহলির সংগ্রহ ১৯৫০ রান। পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় কথা হলো তার ধারাবাহিকতা। শেষ ৪০ ইনিংসের মধ্যে মাত্র ৩ বার তিনি দুই অঙ্কের নিচে আউট হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রতি মৌসুমে গড়ে মাত্র একবার তিনি এক অঙ্কের রানে ফিরেছেন। শেষ ১৫ ইনিংসের ১৩টিতেই করেছেন ২৫-এর বেশি রান। ২৬৬ ইনিংসে ৮,৯৮৯ রান নিয়ে গতকাল দিল্লির বিপক্ষে রান তাড়ায় নেমেছিলেন কোহলি। কিন্তু আইপিএলের ইতিহাসে পাওয়ারপ্লেতে সর্বনিম্ন ৬ উইকেটে ১৩ রান তোলা দিল্লি গতকাল অলআউট হয় মাত্র ৭৫ রানে। এই রান তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ৯ উইকেটের জয়ে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন কোহলি। এতেই তিনি পৌঁছে যান নয় হাজারী ক্লাবে।
ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করছেন, কোহলির এই অতিমানবীয় ফর্মের পেছনে রয়েছে তার ব্যাটিং টেকনিকের পরিবর্তন। ২০২৪ সাল থেকে তার ব্যাটের ধরনে বড় বদল এসেছে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন বিষয়টিকে বলছেন ‘পটেনশিয়াল এনার্জি’। বোলার বল করার আগেই কোহলির ব্যাট এখন স্থির না থেকে এক ধরনের ছন্দে থাকে, যা তাকে মাঠের যেকোনো দিকে শট খেলার বাড়তি সুযোগ করে দিচ্ছে। এক সময় স্পিনের বিপক্ষে কোহলির মন্থর ব্যাটিং নিয়ে অনেক সমালোচনা হতো। কিন্তু ২০২৪ সালে স্পিনের বিপক্ষে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৮-এর ওপর, আর লেগ স্পিনের বিপক্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৫.৬। নিজেকে শুধরে নেওয়ার এই মানসিকতাই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।
টানা ১৭ বছর শিরোপা না পাওয়ার যে যন্ত্রণা আরসিবি সমর্থকদের তাড়িয়ে বেড়াত, ২০২৫ সালের ৩ জুন আহমেদাবাদে তার অবসান ঘটে। পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল ট্রফি হাতে তোলেন কোহলি। ফাইনালের সেই স্নায়ুচাপের ম্যাচে ৪৩ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। শিরোপা জেতার পর কোহলি বলেছিলেন, এই জয় তার কাছে ২০১১ ও ২০২৪ বিশ্বকাপ জয়ের সমান।
২০২৬ সালে এসে কোহলি যেন আরও ভয়ংকর। টেস্ট এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন তিনি আরসিবির হয়ে মাঠে মাতাচ্ছেন। ৩৭ বছর বয়সে এসেও যেভাবে তিনি নিজের ব্যাটিং টেকনিক বদলেছেন এবং তরুণের মতো দাপট দেখাচ্ছেন, তা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় বার্তা। ৯ হাজার রানের ইতিহাস গড়া কোহলি এখন কেবল খেলছেন না, ১৮ বছরের সেই জেদ আর নিষ্ঠার ফল উদযাপন করছেন।





