এশিয়ান গেমস
এবার ব্রোঞ্জও জুটল না ক্রিকেটে

সংগৃহীত ছবি
সোনালী স্বপ্ন মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সময় বাংলাদেশের আকাশ থেকে রূপালী রদ্দুরও সঙ্গী করে নিয়ে গিয়েছিল দু’দিন আগে। নাগোয়ার নিশিন সিটির করোগি স্পোর্টস পার্ক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শনিবার সুযোগ ছিল অন্তত সান্ত্বনার ব্রোঞ্জ জয়ের। তবে লঙ্কান ব্যাটারদের লাগাম টেনে রাখতে না পেরে এবং ব্যাটারদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে ম্যাচরা ৬৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাতে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশ কোনো পদক পেল না ক্রিকেট ডিসিপ্লিনে।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচে শ্রীলঙ্কার পক্ষে ১৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ার পেছনে অনুঘটক ছিল বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রহীন বোলিং, বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের টানা দ্বিতীয় উদার হস্তে রান বিলানো। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার একাই দুই ওভারে ৪১ রান দিয়ে দলের হারে বড় অবদান রেখেছিলেন। আজও যেন মোস্তাফিজ শুরু করে সেই ম্যাচ থেকে। তার প্রথম ওভার থেকেই ২৫ রান তুলে নেন শ্রীলঙ্কার থারিন্দু রত্নায়েকে ও অধিনায়ক শাহান আরাচাইগে। শেষ দিকে দুই উইকেট নিলেও মোস্তাফিজ এ ম্যাচে তিন ওভারে দিয়েছেন ৪৩ রান। খরুচে বোলিংয়ে আজ অবশ্য মোস্তাফিজকে ছাড়িয়ে গেছেন রিশাদ হোসেন। ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে মাত্র এক উইকেট নিয়েছেন।
বাংলাদেশের বোলারদের সব প্রতিরোধ নিমেশে শেষ করে দেয় রত্নায়েকে ও আরাচাইগের ৯৩ রানের জুটি। রত্নায়েকে ৩২ বলে ৬৫ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৭ চার ও ৫ ছক্কায়। আরাচাইগে ৩৭ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে যোগ্য সঙ্গ দেন। মোস্তাফিজ ও রিশাদ ছাড়া বাকিদের বোলিং খুব খারাপ বলা যাবে না। শরীফুল ইসলামের জায়গায় খেলতে নামা আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। মেহেদী হাসান ও সাইফ হাসানেরও আছে দুটি করে শিকার।
১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন পারফরম্যান্স ম্যাচ থেকে দলকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার—শ্রীলঙ্কান বোলিং আক্রমণের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। শুরুর তিন ব্যাটার সাইফ হাসান, তানজিদ তামিম ও লিটন দাস রানের খাতাই খুলতে পারেননি। এদিন তাওহিদ হৃদয়ও ব্যর্থ হন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটার নাসুম আহমেদ, ২৮ বলে করেন ২৬ রান।
উইকেটে টিকে থাকার সর্বনিম্ন লড়াইটুকুও দেখাতে ব্যর্থ হননি ব্যাটাররা, তাই পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি দল (১৭.৩ ওভার); ১০২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তিই যেন হল এ ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচেও বাংলাদেশের হারের মূল কারণ ছিল টপ অর্ডারের বাজে ব্যাটিং এবং মোস্তাফিজুর রহমানের ধারহীন ও খরুচে বোলিং। টানা দুই ম্যাচে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতা এবং মূল পেসারের এমন পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত খালি হাতে দেশে ফেরার হতাশায় ডোবাল বাংলাদেশকে।
এর মধ্য দিয়ে এই গেমসে বাংলাদেশের সাফল্য বলতে একটি ব্রোঞ্জ, ভাগ্য জোড়ে কোনো ম্যাচ না জিতেই যেটা জিতেছিলেন উশুর জিন্নাত আক্তার। এর বাইরে ২১টি ডিসিপ্লিনের ১৮৬ ক্রীড়াবিদ পুরো গেমস জুড়েই গেঁথেছেন ব্যর্থতার মালা।



