স্পিনে বুমেরাং

পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে পেসারদের দারুণ সাফল্যে টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। অথচ এবার স্পিননির্ভর উইকেট বানিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেরাই বিপাকে পড়ল।
মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের হারের পর প্রশ্নটা তাই শুধু হার নিয়ে নয়, নিজেদের শক্তির জায়গা থেকে সরে যাওয়াটা নিয়েও। প্রতিপক্ষের স্পিন দুর্বলতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনায় বানানো উইকেটেই বাংলাদেশের ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। আবার সেই উইকেটে বাংলাদেশের স্পিনাররাও প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রণ দেখাতে পারেননি।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য কন্ডিশন বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি ভুল বলতে রাজি নন। তার ব্যাখ্যা, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোন জায়গায় শক্তি, কোন জায়গায় দুর্বলতা আছে— ওই অনুযায়ী আমরা উইকেটটি তৈরি করেছি। স্পেশালি আমরা আসলে কীভাবে ওদের ডমিনেট করতে পারি, ওই চিন্তা করে উইকেটটি বানানো।’
অতীতে স্পিনাররা বাংলাদেশকে ম্যাচ জিতিয়েছেন— এই বিশ্বাস থেকেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন শান্ত, ‘কারণ স্পিনাররা সবসময় আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছেন অতীতে। ওই কনফিডেন্সটা আমাদের আগেও ছিল, এখনো আছে।’
বাস্তবতা বলছে, এবার সেই পরিকল্পনা কাজে দেয়নি। বরং স্পিনবান্ধব কন্ডিশনেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা জোমেল ওয়ারিকান কিংবা রস্টন চেজদের মতো স্পিনারদের বিপক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাটিং করতে পারেননি। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্পিনাররাও প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ ঘোরানোর মতো চাপ তৈরি করতে পারেননি।
শান্তর মতে, এর বড় কারণ ছিল বোলিংয়ের লেন্থ, ‘আমার কাছে মনে হয় যে, স্পিনে শেষ ইনিংসে লেন্থটা আমরা খুব ভালোভাবে পিক করতে পারিনি। ঠিকঠাক বল করলে উইন্ডিজ ব্যাটাররা শেষ ইনিংসে এত সহজে রান করতে পারে না। আমাদের স্পিন লেন্থটা একটু এলোমেলো ছিল।’
সবচেয়ে বড় হতাশা এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের দরকার ছিল দ্রুত উইকেট। অথচ চতুর্থ ইনিংসে মাত্র দুটি উইকেট নিতে পেরেছে স্বাগতিকরা। শান্তর নিজের কথাতেই সেই ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট।
শান্ত বলেছেন, ‘আপনি যদি স্পেশালি ফোর্থ ইনিংসের ব্যাটিংটা ওদের দেখেন, আমরা মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছি। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অ্যাটলিস্ট যদি সাত-আটটি উইকেটও আমরা নিতে পারতাম, তাহলে হয়তো বুঝতাম যে, আমরা হয়তো রানটা অনেক কম করেছি।’



