আগামীর নিমন্ত্রণ আদায় করতে হবে শান্তদেরই
- ৭০০০ : প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৭০০০ রানের দুয়ারে মুশফিকুর রহিম। এজন্য করতে হবে আর ১৯৪ রান
- ৭ : আর ৭ উইকেট পেলে সর্বকালের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারির তালিকায় সেরা দশে আসবেন মিচেল স্টার্ক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২১ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শুধু বাংলাদেশ দলেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই এখনো খেলছেন— এমন ক্রিকেটারদের ভেতর তারও আগে অভিষিক্ত শুধু একজন, জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর। তিনিও ক্যারিয়ারে সাময়িক বিরতির পর অবসর ভেঙে ফিরেছেন। সেই মুশফিকুর রহিমও ২০০৩ সালে বাংলাদেশ দলের সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় স্কুলের ছাত্র। প্রশ্ন হচ্ছে, পরের বার বাংলাদেশ যখন অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে, সেই সম্ভাব্য ক্রিকেটাররা কি এখন স্কুলে নাকি আঁতুড়ঘরে?
অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগটা স্রেফ খেলা নয়, একটা সম্মানও। টি-টোয়েন্টির বাণিজ্যিক আগ্রাসনের যুগেও অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ক্রিকেটের সংস্কৃতিটা টিকে আছে ভালোভাবে। বড়দিনের পরদিন মেলবোর্ন ক্রিকেট মাঠে বক্সিং ডে টেস্ট দেখতে যাওয়াটা অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতির একটা বড় উদযাপনের মুহূর্ত। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট মৌসুম শুরু মানে প্রাদেশিক বিভাজন ভুলে অস্ট্রেলিয়ান পরিচয়কে তুলে ধরার শুরু, এখনো একজন ক্রিকেটারের কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে চড়া দামের চেয়ে ব্যাগি গ্রিন টুপিটাই আরাধ্য। যদিও ২৩ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় সফরেও বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ক্রিকেট তীর্থ যেমন সিডনি, মেলবোর্ন বা অ্যাডিলেডে খেলার সুযোগ করে উঠতে পারেনি, তারপরও নর্দার্ন টেরিটরিতে টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন বা গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের কাছাকাছি স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশকে কম সম্মান দেয়নি অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্স বুধবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে খেলেছি আগে, যদিও অস্ট্রেলিয়ায় নয়; তারা এবার অস্ট্রেলিয়ায় খেলছে, সেটা খুবই দারুণ ব্যাপার। আমি অবশ্যই চাই তাদের সঙ্গে আরও ঘন ঘন দেখা হোক। টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হচ্ছে এটা, একেকবার একেক দলের সঙ্গে খেলা, ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। একেক দলের খেলার ধরন একেক রকম।’ বাংলাদেশ দলটাকে কেমন মনে করেন— এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘নিশ্চিত নই, সপ্তাহখানেক পর বলতে পারব। ওরা আসলে এমন একটা দল, যাদের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই কঠিন, বেশ দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে তাদের (বাংলাদেশ) দলে।’
আমি নিশ্চিত তারা শক্তিশালী। টেস্ট ম্যাচের আগে সবসময়ই কিছু অজানা শঙ্কা কাজ করে। গত কয়েক বছরে তারা কিছু বড় জয় পেয়েছে, দলে বেশ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে
প্যাট কামিন্স
অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক
সামনের ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিতভাবেই খেলবে ২০টি টেস্ট, সংখ্যাটা বেড়ে হতে পারে ২১, যদি তারা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলে। প্রতিযোগিতাটির পয়েন্ট টেবিলে তারা আছে সবার ওপরেই। বাংলাদেশের সঙ্গে খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা অস্ট্রেলিয়ার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্র, যেটি ২০২৫-২৭ এর জুন পর্যন্ত, সেই চক্রে আড়াই বছরে খেলবে ১২ টেস্ট। এর বাইরে হয়তো চার থেকে পাঁচটি। সংখ্যার এই পার্থক্যই বলে দিচ্ছে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দুই দেশের দর্শন কেমন।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতির বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা প্রতিপক্ষকেও সম্মান দিতে জানে। ১৯৯২ সালে সিডনি টেস্টে ১৮ বছর বয়সী শচীন টেন্ডুলকার যখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন, তখন সিডনির গ্যালারির দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। যে নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়া সফরে চোটের জন্য অনুপস্থিত, তাকে নিয়েও অলরাউন্ডার বিউ ওয়েবস্টার বলেছেন, ‘যারা বাংলাদেশে খেলতে গিয়েছিল (ওয়ানডে সিরিজ), তাদের কাছে শুনেছি যে সে ছিল সত্যিকারের হুমকি। সে ব্যাটারদের সত্যিই অনেক চাপে ফেলেছিল, ১৪৫ কিলোমিটারের ওপর টানা বল করা সহজ নয়।’ ২১ বছর আগে কার্ডিফে সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ আশরাফুল এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে গেছেন ব্যাটিং কোচ হিসেবে, পুরনো অনেকেই নাকি খোঁজ করেছেন তার।
খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই আমরা। প্রতিটি সেশন বাই সেশন খেলতে চাই। চার দিন যাবে, পাঁচ দিন যাবে, নাকি তিন দিন যাবে— এ ধরনের আলোচনা থাকবেই
নাজমুল হোসেন
বাংলাদেশ অধিনায়ক
এতকিছু এজন্যই বলা, কারণ অস্ট্রেলিয়ায় খেলার আমন্ত্রণ পাওয়ার একটাই উপায়, সেটা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করা। সহজ প্রতিপক্ষকে ঘরে ডেকে এনে গুঁড়িয়ে দিয়ে সহজেই জিততে চায় না অস্ট্রেলিয়া। সেটা শুধু ক্রিকেটে নয়, যেকোনো খেলাতেই। অস্ট্রেলিয়া ভৌগোলিকভাবে ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত হলেও তারা ফুটবল খেলে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে অর্থাৎ এএফসির অধীনে। ২০০৬ সালে ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে মহাদেশীয় প্লে-অফে উরুগুয়েকে হারিয়ে সকারুরা খেলেছিল জার্মানি বিশ্বকাপে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল প্রশাসক ফ্র্যাঙ্ক লোয়ি দেখলেন, মহাদেশের অন্য যেসব দল যেমন সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, তাহিতি, টোঙ্গা এসব দেশের সঙ্গে খেললে ফুটবলে কখনোই উন্নতি করবে না অস্ট্রেলিয়া। এরপর তারা এএফসিতে আসার আবেদন করে এবং ভোটে সর্বসম্মতির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াকে এএফসির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশকে পরেরবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যদি আবারও ২৩ বছর অপেক্ষা করতে না হয়, তার উপায় একটাই। শান্ত-মুশফিক-লিটনের এই সফরে মনে রাখার মতো এমন কিছু করা, যাতে অস্ট্রেলিয়াও ডেকে পাঠায় বাংলাদেশকে।




