ওয়ানডের তানজিদই আছেন টেস্টে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একটা ১০১ রানের ইনিংস কতটা ঢেউ তুলতে পারে? ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১ রানের ইনিংসটা যে ঢেউ তুলেছে তিমুর সাগরের পাড়ে, তার ছোঁয়া এসে লেগেছে বঙ্গীয় ব-দ্বীপেও। সেঞ্চুরির পর তামিম বিনীত, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কিংবদন্তিরাই বরং তাকে নিয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম বলেছেন, খুব একটা পরিবর্তন আনেননি ব্যাটিংয়ের ধাঁচে, ‘আসলে তেমন কিছু না। যখন আমাকে টেস্ট দলে নেওয়া হয়, স্পষ্ট বার্তা ছিল আমি কেমন খেলব। ওয়ানডেতে যেভাবে ব্যাট করি, একই মাইন্ডসেট নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি। তারা আমাকে বাজে বল করেনি বা রুম দেয়নি, অনেক টাইট লাইনে বল করেছে। তাই আমি চেষ্টা করেছি যত বেশি ধৈর্য নিয়ে খেলা যায়।’
বাবা–মাকে উৎসর্গ করা নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংসের পুরোটাই সাবলীল ছিলেন তানজিদ। ধারাভাষ্যকার হিসেবে এই টেস্টে অনেকের সঙ্গে আছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্টও, তামিমের সাক্ষাৎকারটা সম্প্রচার সংস্থার জন্য ‘গিল’ই নিয়েছেন। তার সঙ্গে আলাপচারিতাও উপভোগ করেছেন তামিম, ‘গিলক্রিস্টকে ছোটবেলায় দেখতাম, আমাদের পছন্দের প্লেয়ার ও। ও যখন ইন্টারভিউ করছিল, আমাকে বলেছে অনেক উপভোগ করেছে আমার ব্যাটিং। এটা অনেক ভালো লাগার বিষয় আমার কাছে।’
প্রতিপক্ষ দেশের এক তরুণের ব্যাটিং উপভোগ করেছেন ধারাভাষ্যে থাকা মার্ক ওয়াহ ও রিকি পন্টিংও। তামিমের ব্যাটিং দেখে পন্টিং বলেছেন, ‘তানজিদ মুগ্ধ করেছে। সে বেশ ধৈর্যশীল। ডিফেন্সে পোক্ত। টেকনিক খুবই সহজ— ভালো বলগুলো ডিফেন্ড করা আর খারাপ বলগুলোকে সীমানার বাইরে পাঠানো।’
একটি টিভি চ্যানেলে নিজস্ব বিশ্লেষণে পন্টিং বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটা (সেঞ্চুরি) করার চেয়ে ভালো আর কোনো জায়গা নেই। সেটাও মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে। বাংলাদেশের ধীরগতির ও নিচু উইকেটে খেলে সে বড় হয়েছে। এখানে কন্ডিশন সম্পূর্ণ আলাদা, তবে সে চমৎকার খেলেছে। এটা এমন এক মুহূর্ত, যা সে কখনো ভুলবে না।’
আরেক ব্যাটিং কিংবদন্তি মার্ক ওয়াহ তামিমের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির মুহূর্তটায় বলেছেন, ‘কী দারুণ এক মুহূর্ত! এরপর তার ক্যারিয়ারে যা-ই ঘটুক না কেন, ডারউইনে করা সেঞ্চুরি সে কখনো ভুলবে না।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা মানে শুধু ব্যাটে বল খেলাই নয়, মনকেও নিয়ন্ত্রণ করা লাগে। কারণ প্রতিপক্ষ সমানে স্লেজিং করে। তামিম জানতেন এমনটা হবে, তাই ধেয়ে আসা শব্দবাণকে পাত্তা দেননি, ‘আমি আসলে আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম এটার জন্য। জানি, যখন উইকেট পাবে না, হার্ড টাইম দেবে। সেটি বোলিং দিয়ে হোক বা মুখের কথায়। ওরা করেছে কিছুটা। এতটা করেনি। যেহেতু আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম, গুরুত্ব দিইনি এতটা।’ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষের কীর্তিকেও সম্মান জানানোর উদারতা দেখা যায়, সেঞ্চুরির পর মাঠের দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানোয় আপ্লুত তামিমও, ‘এটা ভালো লাগার জায়গা। ভালো লাগছিল। এটাই হয়তো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য, আজ অনুভব করতে পেরেছি।’
প্রতিপক্ষের বোলিং লাইনআপ বিশ্বসেরা, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই এমন বোলিংয়ের বিপক্ষে অচেনা মাঠে সেঞ্চুরি। তামিম বললেন, বোলারকে নয়, খেলেছেন বোলিং, ‘তারা এক নম্বর দল। নতুন বলে তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি শট কমিয়ে কীভাবে স্ট্রাইক রোটেট করা যায়। আমার ও মুমিনুল ভাইয়ের পার্টনারশিপ, আমার ও শান্ত ভাইয়ের পার্টনারশিপ, মুশফিক ভাই ও শান্ত ভাইয়ের পার্টনারশিপ ভালো ছিল। যেটা ভালো রান করতে সহায়তা করেছে। আমি কখনো বোলার দেখে খেলিনি। আমি চেষ্টা করেছি বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার।’






