বিফলে গেল শরিফুলের সেরা বোলিং

নব্বইয়ের পাকিস্তানকে কি মনে পড়েছিল? হতেই পারে। হেরে যাওয়া ম্যাচ নাটকীয়ভাবে জিতে নেওয়ার এরকম অভ্যাস করেছিল পাকিস্তান। রবিবার মিরপুরে বাংলাদেশ তখনকার পাকিস্তান হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। রোমাঞ্চ ছড়িয়েও শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু যে আনন্দ উপহার দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১ উইকেটের হারে সেই আনন্দ মুছে গেছে।
সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার খুব কাছে ছিল বাংলাদেশ। সফরকারীদের ২৭৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল স্বাগতিকরা। বোলারদের অবদানে অজিদের ৯ জন সাজঘরে ফেরেন। তবুও শেষ পর্যন্ত জয় ধরা দিল না। অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ২৭৭ রান করে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ায়। অবশ্য ২-১ এ সিরিজ হার হজম করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।
ম্যাচ জমে ওঠে শরিফুলের ৬ উইকেটে। অস্ট্রেলিয়ার তখন ৩০ বলে ৯ রান দরকার। ৪৬তম ওভারে পরপর দুই বলে অলিভার পিকি ও জাভিয়ের বার্টলেটকে ফেরান শরিফুল। অবশ্য হ্যাটট্রিক পাননি। ৪৮তম ওভারে এসে বেন ডারসুইস মেহেদীর ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটা আরও রোমাঞ্চকর করে তোলেন শরিফুল।
৪৯তম ওভারে স্ট্রাইকিং প্রান্তে ১৪৯ রান করা কুপার কনোলি। কিন্তু মোস্তাফিজ যে ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট, তা বুঝিয়ে দিলেন কনোলিকে। ওভারের তৃতীয় বলে তার কাটারে কাভার ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হন উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া এই সেঞ্চুরিয়ান।
ম্যাচের এমন মুহূর্তে নবম উইকেট পেয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাসকিন আহমেদের জোরের ওপর করা বলে সেই সুবাস মিলিয়ে গেল। তাসকিনের অফস্টাম্পের বাইরের বলটিতে কাভার ড্রাইভ করে শেষ চার বলে ২ রানের প্রয়োজনীয়তা বাউন্ডারিতে মিটিয়ে দেন অ্যাডাম জাম্পা।
দারুণ উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচটিতে অজিদের হয়ে ওপেনার কনোলি ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দলকে টেনেছেন। ১৩৪ বলে ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১৪৯ রান তার। সিরিজে প্রথমবার খেলতে নেমেই ক্যারিয়ারসেরা ৪৮ রান খরচে ৬ উইকেটের স্পেল উপহার দিয়েছেন শরিফুল।
এর আগে বাংলাদেশের ২৭৪ রানের ইনিংসে তাওহীদ হৃদয় ৮৮ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। এ ছাড়া ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক ৫১ বলে ৫৬ ও লিটন দাস ৭৮ বলে ৫৮ রান করেন।


