বাজবলের পর নতুন যুগে ইংল্যান্ড ক্রিকেট

সংগৃহীত ছবি
ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট। বাজবল যুগ শেষ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভিন্ন দর্শন নিয়ে মাঠে নামছে ইংলিশরা। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে নিজেদের খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ে পাকিস্তান। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় সপ্তম ও অষ্টম স্থানে থাকা দুই দলের লড়াই হয়তো শীর্ষ সারির দ্বৈরথ নয়। তবে দুই দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিরিজটি হয়ে উঠতে পারে বেশ আকর্ষণীয়।
ইংল্যান্ড সর্বশেষ ১০ টেস্টে জিতেছে মাত্র দুটিতে। পাকিস্তানের জয়ও শেষ সাত টেস্টে দুটি। দুই দলই সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ২০২৪ সালের শেষ দিকে। পাকিস্তানও দীর্ঘদিন ধরে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি। সর্বশেষ তারা ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ১৯৯৬ সালে।
এরই মধ্যেই দুই দলের ভেতরে ঘটেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বেন স্টোকসের হঠাৎ অবসর ইংল্যান্ডকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিদায় নিতে হয়েছে কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকেও। নতুন করে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন জো রুট।
পাকিস্তানে শান মাসুদের নেতৃত্বের অধ্যায়ও শেষ হয়েছে। আবারও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল বাবর আজমের। কিন্তু তিনি এবার চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারছেন না। ফলে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন সালমান আলি আগা।
সব মিলিয়ে অনেক পরিবর্তন আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে লিডসে শুরু হচ্ছে দুই দলের লড়াই। ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে এখন আলোচনার কেন্দ্রে বাজবলপরবর্তী নতুন দর্শন। গত কয়েক বছর ধরে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ইংল্যান্ড এবার নিজেদের খেলার ধরন বদলাবে কিনা সেটিই দেখার বিষয়।
রুট অবশ্য ম্যাচের আগে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটে নির্দিষ্ট কোনো ধরনকে অনুসরণ করার পক্ষে নন তিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার গতি ও কৌশল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি, ‘টেস্ট ক্রিকেট খেলার একটিমাত্র পথ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে এবং ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলতে হবে। পাঁচ দিনজুড়ে খেলা কখনো একই রকম থাকে না। প্রতিটি মুহূর্তে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ আসে এবং সেই অনুযায়ী আপনাকে মানিয়ে নিতে হয়।’
বাজবলের উত্তরসূরি হিসেবে ইংল্যান্ডের নতুন দর্শন কী হবে, সেটিই সিরিজের অন্যতম বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি ওপেনার হিসেবে এমিলিও গে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতে পারেন কি না, জর্ডান কক্স ও ড্যান লরেন্স নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন কি না এসবও নজরে থাকবে। বেন স্টোকসের অনুপস্থিতিতে একাদশের ভারসাম্য কীভাবে তৈরি করবে ইংল্যান্ড সেটিও বড় প্রশ্ন।
তবে নিজেদের সংকটের মধ্যেও পাকিস্তান এই সিরিজে সুযোগ দেখছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপাকে ফেলার মতো অস্ত্র ঐতিহ্যগতভাবেই পাকিস্তানের রয়েছে। এবার গতি তারকার অভাব থাকলেও মোহাম্মদ আব্বাসের নিখুঁত বোলিং ইংলিশ ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
পাকিস্তানও প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। বেকেনহামে প্রস্তুতি ম্যাচে সাত উইকেটে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সরফরাজ আহমেদ। ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
পয়েন্ট তালিকায় সপ্তম ও অষ্টম স্থানে থাকা দুই দলের লড়াইকে তাই আপাতদৃষ্টিতে তলানির লড়াই মনে হতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ডের বাজবল পরবর্তী নতুন যুগের শুরু এবং পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা—সব মিলিয়ে সিরিজটি হতে পারে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়।






