৫০০ উইকেট আর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ধৈর্য। ছোট্ট একটা শব্দ। তবে আধুনিক যুগের ক্রিকেটে ব্যাটারদের মধ্যে এ ছোট্ট শব্দেরই বড্ড অভাব। টি-টোয়েন্টির আগ্রাসন বদলে দিয়েছে তাদের অভ্যাস। আর এ জায়গায় হাসান মাহমুদ একদম বিপরীত। প্রবল গতি কিংবা পিলে চমকানো বাউন্সার নয়, ধারাবাহিকভাবে একই জায়গায় বল করে করে ব্যাটারদের ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নিয়েই সফল বাংলাদেশ দলের এ ডানহাতি পেসার। স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন ক্যারিয়ারে নিতে চান ৫০০ উইকেট আর জিততে চান বিশ্বকাপ।
ডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দেওয়ার পেছনে হাসান মাহমুদের ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার রেখেছে বড় ভূমিকা। দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার ভেঙেছেন হাসান, বড় হুমকি হয়ে ওঠা ক্যামেরন গ্রিনকেও থামিয়েছেন সেঞ্চুরির পরপরই। ৯ উইকেটের ৪টিই বোল্ড, ৪টি উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ। এ পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে লাইন-লেন্থে কতটা নিখুঁত ছিলেন এই পেসার। স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি ঠিক যেভাবে বল করতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই বোলিং করতে পেরেছি। আমি দলের ভিডিও অ্যানালিস্টের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, সে বলেছিল যে আমি যদি একইরকম বল বারবার করতে থাকি, তাহলে আমার উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। আমরা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কিছু ম্যাচ ফুটেজ দেখছিলাম, কীভাবে আমরা বোলিং করব সেই ধারণাটা নেওয়ার জন্য। আমি, দলের কোচ, অধিনায়ক ও সতীর্থরা মিলে একসঙ্গে বসে একটা পরিকল্পনা সাজাই।’ ভালো বোলিংয়ের পেছনে রহস্যটা খুব সহজ বলেছেন হাসান, ‘একটা উপায় হচ্ছে, লাইন এবং লেন্থে ধারাবাহিক থেকে স্টাম্পের দিকে টানা বল করে ব্যাটারের ধৈর্য নিয়ে খেলা, আরেকটা উপায় হচ্ছে ব্যাটারের মন পড়তে পারলে আর সঙ্গে যদি দরকারি দক্ষতাটা থাকে তাহলে ব্যাটারকে ফাঁদে ফেলা; আমি দুটি চেষ্টাই করেছি ম্যাচের সময়ে সময়ে।’
আমরা এখন এমন একটা দল, যারা যেকোনো দলকেই হারানোর সামর্থ্য রাখি। এ পরিবর্তনের পেছনে সবটুকু কৃতিত্ব ক্রিকেটারদের, যারা অনেক পরিশ্রম করছে
হাসান মাহমুদ
মাত্র ১৫ টেস্টের ছোট ক্যারিয়ার এখন পর্যন্ত, এর মাঝেই বাংলাদেশের একাধিক ঐতিহাসিক জয়ে হাসানের দারুণ অবদান। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে নিয়েছিলেন ইনিংসে ৫ উইকেট, যে ম্যাচটা জিতে প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। চেন্নাইয়ে পরের টেস্টে ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেও দলকে জেতাতে পারেননি। তবে শিকার তালিকায় রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শুভমান গিল আর ঋষভ পন্তের নাম। এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে ট্রাভিস হেডকে দুই ইনিংসেই আউট করেছেন হাসান, তার বলে বোল্ড হয়ে তো অবাক করা কাণ্ডই ঘটিয়েছেন এই অজি ব্যাটার! এলোমেলো হওয়া স্টাম্পকে আবার ঠিকঠাক করে দিয়েছেন মাঠ ছাড়ার আগে।
হাসান জানিয়েছেন, পাড়ার গলিতে খেলতে খেলতেই তার ক্রিকেট খেলার শুরু, ছোট থেকেই হতে চেয়েছেন ফাস্ট বোলার, ‘আমি টিভিতে খেলা দেখতাম, টেস্ট ম্যাচ আমার খুব ভালো লাগত। ফাস্ট বোলারদের বোলিং খুব ভালো লাগত। শোয়েব আখতার, শন টেইট, ব্রেট লির বোলিং দেখতাম আর পাড়ার বন্ধু বা ভাইদের সঙ্গে খেলায় জোরে বোলিং করতে চাইতাম, তখন পারতাম না, তবে চেষ্টা করতাম। এরপর আমার এলাকার স্থানীয় ক্রিকেট একাডেমিতে গেলাম, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেললাম। তাদের টিভিতে বোলিং করতে দেখা আর ক্রিকেট খেলা, এটিই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
হাসান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ দল আর আগের মতো নেই। এখন বাংলাদেশ যেকোনো দলকেই হারাতে পারে, যার প্রমাণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়, ‘এ জয়টা আমার জন্য খুবই বিশেষ একটা মুহূর্ত, অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারানোর পর এখন আমরা বলতে পারব যে, বাংলাদেশ এখন আর আগের মতো নেই। আমরা আগের চেয়ে প্রতিদিনই উন্নতি করছি, আমরা এখন এমন একটা দল, যারা যেকোনো দলকেই হারানোর সামর্থ্য রাখি। এ পরিবর্তনের পেছনে সবটুকু কৃতিত্ব ক্রিকেটারদের, যারা অনেক পরিশ্রম করছে। আমি সতীর্থদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।’
আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমি এখন যেটা করছি সেটাই করে যেতে চাই, ভালো বোলিং করে যেতে চাই। আমার নামের পাশে ৫০০ উইকেট দেখতে চাই আর বাংলাদেশের হয়ে কোনো একটা সংস্করণে বিশ্বকাপ জিততে চাই, সেটাই হবে বিশেষ কোনো অর্জন।’






