পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের টাকা মেরে খেতেন বিসিবি কর্মকর্তা, ধরলেন তামিম

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যাতে সঠিকভাবে পারিশ্রমিক পায়, সেই ব্যবস্থা করেছেন তামিম ইকবাল।
ক্রিকেট বোর্ডে দুর্নীতির খবর কম-বেশি সবারই জানা। মাঝেমধ্যে বেরিয়েও আসে থলের বেড়াল। তাই বলে গরীব পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের টাকাতেও ভাগ বসাতে হবে? এমন বিস্ময়কর ঘটনাই ঘটেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে। টেন্ডার পাওয়া কোম্পানির সঙ্গে ভাগাভাগি করে টাকা মারতেন বিসিবির এক কর্মকর্তা। এডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল নিজেই ধরেছেন এই দুর্নীতি। পাশাপাশি নিয়েছেন কার্যকর ব্যবস্থাও।
সাংবাদিকদের তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি যখন গ্যালারিতে যাই (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি) একজন নারী আমাকে অনুরোধ করেন, বাথরুমগুলোর দিকে নজর দিতে। সেখানে গেলে একজন খালাম্মা (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) বলেন, উনারা তিনশ টাকা করে বেতন পান! এরপর বিসিবিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, ক্লিনিং সার্ভিসে যারা আছেন, তাদেরকে কত টাকা করে দেওয়া হয়? জেনে অবাক হলাম যে সাড়ে ছয়শ টাকা করে। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, “সাড়ে ছয়শ দেওয়া হলে তারা তিনশ টাকা কেন পাচ্ছে?” এরপর যার টেন্ডারের মাধ্যমে ক্লিনিং সার্ভিস চলছে, তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, “ব্যাপারটা কী”?’ এভাবেই ফাঁস হয় আসল ঘটনা। তামিম বলেন, ‘জিনিসটা আসলেই খুব শকিং। এই জিনিসগুলাও যে বিসিবিতে হয় আইডিয়া ছিল, কিন্তু এই লেভেলে হয়, সেটার আইডিয়া ছিল না। বিষয়টি হলো, বিসিবির নিজস্ব ক্লিনার আছে। কিন্তু যখন সিরিজ চলে তখন বিসিবি থার্ড পার্টি থেকে ক্লিনিংয়ের সুবিধা নেয়। নিয়মানুযায়ী, টেন্ডারে কাজ পাওয়া সেই কোম্পানি লোকজন দেবে। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, সেই কোম্পানি বিসিবির ৩০-৪০ জন ক্লিনার দিচ্ছে। বিসিবির থেকে সেই কোম্পানি টাকাটা নিয়ে বিসিবির লোকজনকেই দিচ্ছে। ওই কোম্পানি নিজেদের মতো করেই ক্লিনারদের টাকা দিচ্ছে। আর যা প্রফিট আসছে, তা রেখে দিচ্ছে!’
দুর্নীতি ধরা পড়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক, ‘আমি কোম্পানির লোককে বললাম, “আপনারা সাড়ে ছয়শ টাকা থেকে দেড়শ টাকা নিতে পারেন। এই মহিলারা তো অন্তত পাঁচশ টাকা পেতে পারে।” কোম্পানির লোক বলে যে, “ভাই আমি পাঁচশ টাকা করেই দেই”। বলি যে, “কাকে দেন?” সে বলল, “বিসিবির ওই ওমুককে দেই”। মানে কয়েক হাত ঘুরে সেই টাকা ক্লিনারদের কাছে আসে!”
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক সঠিকভাবে দেওয়ার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দিয়েছেন তামিম, ‘আমি সেই কম্পানিকে বললাম, “এখন থেকে ক্লিনার আপনাদের সরবরাহ করতে হবে। ক্লিনারদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দেবেন। সেই অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে- এমন প্রমাণসহ আপনি বিল সাবমিট করবেন। নাহলে আমি বিল ছাড়ব না।” এসব দুর্নীতির অনেক কিছুই তো আপনারা জানেন। আমার কষ্ট হয়, যে মহিলারা দৈনিক তিনশ-চারশ টাকা উপার্জন করে, এদের থেকেও টাকা খেতে হবে? এদের থেকেও টাকা চুরি করতে হবে? অ্যাবসুলিউটলি ননসেন্স! আমি বলেছি, এই সিরিজে ৩০ জন মহিলাকে ডাকবেন। আমার সামনে তাদেরকে পাঁচশ টাকা করে দেবেন।”





