ভারতকে বয়কটে কী শাস্তি পেতে পারে পাকিস্তান?

সংগৃহীত ছবি
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিটিআই-কে আইসিসি বোর্ডের এক সূত্র বলেছেন, ‘পিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কিছু জানায়নি। তবে সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসায় আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। কাল (সোমবার) আইসিসি বোর্ড বৈঠকে বসছে। সেখানে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে খেলতে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খেলতে দেওয়া হলেও পিসিবির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলম্বোতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে এমন সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এর পরিণতিতে পাকিস্তানকে শীর্ষ দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে বাদ পড়া, বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিটিআই-কে আইসিসি বোর্ডের এক সূত্র বলেছেন, ‘পিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কিছু জানায়নি। তবে সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসায় আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। কাল (সোমবার) আইসিসি বোর্ড বৈঠকে বসছে। সেখানে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে খেলতে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খেলতে দেওয়া হলেও পিসিবির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
পিসিবির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে ওই সূত্র বলেন, ‘তারা চুক্তি লংঘন করেছে। এর ফলে আইসিসির সদস্য বোর্ডগুলো পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে অনাগ্রহ দেখাতে পারে। এমনকি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হলেও এমন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যাতে তিন ফরম্যাটেই পাকিস্তানের আইসিসি র্যাংকিংয়ে ফলাফলের কোনো প্রভাব না পড়ে। পাশাপাশি, পাকিস্তানকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট থেকেও বঞ্চিত করা হতে পারে।’
পাকিস্তানের রাজস্ব আয়ে প্রভাব ফেলতে পিএসএলের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। আইসিসি সূত্রটি আরও জানান, ‘অবসর নেওয়া খেলোয়াড় বা ফ্রি এজেন্ট ছাড়া বর্তমানে বিদেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পিএসএলে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া আইসিসির হোস্ট ব্রডকাস্টার জিও-স্টারের সম্ভাব্য কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিও পিসিবিকেই বহন করতে হতে পারে। পাশাপাশি, তাদের বার্ষিক রাজস্ব বণ্টনও স্থগিত বা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।’
আইসিসি যদি পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে তাদের জায়গায় উগান্ডা খেলবে। আইসিসি বোর্ড বৈঠকের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এ অবস্থায় পাকিস্তানের জন্য যেসব সম্ভাব্য শাস্তি সামনে আসতে পারে, সেগুলো হলো—
পয়েন্ট হারানো
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান ওই ম্যাচের কোনো পয়েন্ট পাবে না, বরং ভারত পাবে ২ পয়েন্ট। আইসিসির ১৬.১০.৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো দল মাঠে না নামালে তাদের নেট রানরেটেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে পাকিস্তানের নেট রানরেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যদিও ভারতের নেট রানরেটে কোনো প্রভাব পড়বে না।
হাইব্রিড মডেল লংঘনের শাস্তি
পাকিস্তানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ভারতের মাটিতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাইব্রিড মডেল গ্রহণ করেছে আইসিসি। সেই অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলছে। সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরও যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তা হলে চুক্তি লংঘনের অভিযোগ উঠবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে হাইব্রিড মডেলের দাবি তোলার সুযোগ হারাতে পারে পাকিস্তান। যেখানে খেলা হবে, সেখানেই খেলতে বাধ্য করা হতে পারে তাদের।
আর্থিক ক্ষতি
আইসিসির বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও পিসিবির সঙ্গে এমন চুক্তি করেছে আইসিসি। শেষ মুহূর্তে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করলে তা চুক্তিভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতি বছর আইসিসি থেকে লভ্যাংশ হিসেবে পাকিস্তান পায় প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা। আইসিসি ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে, বিশ্বকাপ বয়কট করলে এই লভ্যাংশ কেটে নেওয়া হতে পারে, যা পিসিবির জন্য বড় আর্থিক ধাক্কা হবে।
আইসিসির নির্বাসন
ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত যদি পাকিস্তান সরকারের হস্তক্ষেপে হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে পাকিস্তানকে নির্বাসিত করতে পারে আইসিসি। অতীতে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিয়েছিল সংস্থাটি। এমনকি আইসিসির নির্দেশে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলও পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকে নির্বাসিত করতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একঘরে হওয়ার ঝুঁকি
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলো দ্বিধায় পড়তে পারে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সূচি আইসিসি প্রণয়ন করলেও, বাস্তবে কোনো দেশ পাকিস্তানে সফর করবে কি না বা পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাবে কি না—সে বিষয়ে নতুন করে ভাবতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একঘরে হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
পাকিস্তান সুপার লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা
পিএসএলের প্রধান আকর্ষণ বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ। কিন্তু ভারত ম্যাচ বর্জনের কারণে যদি বিভিন্ন দেশ তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলার অনুমতি না দেয়, তা হলে লিগটির ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় ধরনের সংশয় তৈরি হতে পারে।



