স্পোর্টস
খেলার মাঠে আমরা

ছবি: আগামীর সময়
নাগরিক জীবনকে অনেকখানি সহজ করে দিয়েছে মেট্রোরেল; কিন্তু আমাকে ফেলেছে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বড় অদ্ভুত এই চ্যালেঞ্জ। স্পোর্টস টিমে এক্সট্রা প্লেয়ারও আছেন, এরপরও ভয়ে থাকি ঠিকঠাক একাদশটা নামাতে পারব কি না। কারণ টিমের অনেকের জীবন বাঁধা পড়েছেন মেট্রোর ঘড়ির কাঁটায়। ৯টা বাজতেই তাদের মন উচাটন হয়।
সামীউর রহমানের কথাতেই সেটা প্রথম টের পাই। তবে তার আত্মবিশ্বাস ইব্রাহিমোভিচের কাছাকাছি! মুডে থাকলে অসাধারণ খেলবেন, নইলে ভজকট পাকিয়ে ফেলবেন। তাকে সামলানো মানে বুনো ঘোড়াকে ট্রাফিক সিগন্যাল মানানোর মতো। তাকে শান্ত রেখে মাঠ পর্যন্ত আনাটাই আমার খেলা।
ঠিক তার উল্টো রাহেনুর ইসলাম। পরিশ্রম করতে পারেন, কাজটাও করেন ভালো। তবে তিনি চতুর ফুটবলার, যিনি আগে নিজের বোনাস নিশ্চিত করেন, তারপর গোল করার কথা ভাবেন। সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল জীবনটাকে বন্দি করে ফেলেছেন অন্তর্জালে। চেনা ছকের ভেতর থেকেই খেলে যাচ্ছেন ‘সেফ গেম’। বড় হতে গেলে যে ছক থেকে বেরোতে হবে। তার মতো ফাহিম মাশরুরও ডেস্কে চুপচাপ দ্রুত কাজ করেন। এটা ছাপা পত্রিকায় তার প্রথম কাজ। তাই উপভোগ করা এবং নিজেকে চেনানোর অবারিত সুযোগ আছে এই ‘মেট্রো-ম্যান’র সামনে।
শিহাব উদ্দিনের কারবার ক্রিকেট নিয়ে। তিনি ধারাবাহিক পারফরমার; তবে ডিজিটালে হাত পাকিয়ে হয়ে উঠেছেন টিমের ‘মাল্টি-স্কিলড’ প্লেয়ার। মাল্টিমিডিয়া-সমৃদ্ধ করতে এসেছেন রবিউল ইসলাম রাজু ও মাহমুদ হাসান জুয়েল। ঢাল-তলোয়ার ছাড়াই রাজুর উৎসাহ ও ছোটাছুটি সত্যি অবাক করেছে। তাদের পাঠানো ভিডিও নিয়ে চমৎকার কনটেন্ট তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মো. ইমরোজ রাসেল।
স্পোর্টস টিমের আসল বিস্ময় মানজুর আরমান। যেন লা মাসিয়ার একাডেমি থেকে উঠে আসা তরুণ ফুটবলার। ডেস্ক ও মাল্টিমিডিয়ায় চমক দেখিয়ে তিনি এখন খালিদ রাজের সহযোগী। রাজ ছিলেন আসলে লেখার মানুষ, ডেস্কে ভরসা রাখা যেত তার ওপর। কিন্তু মাল্টিমিডিয়ার মোহে পড়ে রিলস-শর্টসের দুনিয়ায় এখন নিয়মিত স্ট্রাইকার। এরপরও লিখতে হবে, লেখাই যে বাঁচিয়ে রাখতে পারে একজন ভালো ক্রীড়া সাংবাদিককে।
সবশেষে রেখেছি সুদীপ্ত আনন্দকে। কারণ তার মধ্যে সবাইকে আনন্দে রাখার গুণ ও সাংগঠনিক ক্ষমতা আছে। ফুটবল ও অন্য খেলায় তার যোগাযোগ ভালো বলে রিপোর্টিংয়ে সমস্যা হয় না; কিন্তু বিশেষভাবে চেনাতে হলে যে ‘সিগনেচার রিপোর্ট’ লাগে। সেটি করার একটা উপায় হলো অন্য ব্যস্ততা কমানো। তিনি সপ্রতিভ থাকলে রিপোর্টের পাশাপাশি স্পোর্টস ডেস্ক সরগরম থাকবে। ‘কৌশলে’ ছুটিতে থাকলে বুঝতে হবে, আগামীর সময়ের ‘প্লেমেকার’ এখন বিশ্রামে!
আপাতত কারও বিশ্রাম যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে, মাঠে আগামীর সময় স্পোর্টস টিম। তাই দিনের শেষ মেট্রোর চিন্তাটাও সরিয়ে রাখি একপাশে।




