কোরআনের বাণী
জান্নাত শুধু আশা করার বিষয় নয়; অর্জন করতে হয়

প্রতীকী ছবি
কোরআনুল কারিমের বার্তা
সুরা : লোকমান, আয়াত : ০৮
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
৮. নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত;
সুরা লুকমানের এই আয়াতটিতে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর এক সুসংবাদ দিয়েছেন। যারা ঈমান গ্রহণ করে এবং সেই ঈমানের দাবিকে বাস্তব জীবনে সৎকাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত।
এই আয়াতের শুরুতেই দুটি মৌলিক শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে-
১. ঈমান,
২. সৎকাজ।
এখাতে খুব পরিষ্কারভাবে বলে দেয়া হয়েছে শুধু ঈমান আনয়ন বা বিশ্বাসই যথেষ্ট নয়, আবার শুধু সৎ কাজও যথেষ্ট নয়; বরং এই দুটির সমন্বয়ই একজন মানুষকে জান্নাতের মতো নেয়ামত পাওয়ার হকদার করতে পারে। ঈমান মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে, আর সৎকাজ সেই আলোর বহিঃপ্রকাশ। যেমন পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ
‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে
এবং সৎকাজ করেছে…’ (সরা বাকারাহ আয়াত : ২৫)।
এভাবে পবিত্র কুরআনে বহুবার এই দুটি বিষয় পাশাপাশি এসেছে, যা প্রমাণ করে যে, একটি
ছাড়া অন্যটি অপূর্ণ।
আয়াতে উল্লেখিত “لَهُمْ جَنَّاتُ النَّعِيمِ”—এখানে ‘নাঈম’ শব্দটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এটি এমন এক ধরনের নেয়ামতকে বোঝায়, যা শুধু বাহ্যিক সুখ নয়; বরং অন্তরের প্রশান্তি, চিরস্থায়ী তৃপ্তি এবং সব ধরনের কষ্ট ও অপূর্ণতার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। পৃথিবীর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য যতই আকর্ষণীয় হোক, তা ক্ষণস্থায়ী এবং অপূর্ণতায় ভরা। কিন্তু জান্নাতের নেয়ামত হবে নিখুঁত, অবিনশ্বর এবং কখনো শেষ হবে না।
ইবনে কাসীর (রহ.) উল্লেখ করেছেন, এই জান্নাত এমন এক আবাস যেখানে থাকবে আরাম, নিরাপত্তা, সম্মান এবং এমন সব নেয়ামত, যা মানুষের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়।
আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদিসে কুদসীতে এসেছে: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, আর কোনো মানুষের অন্তর কল্পনাও করতে পারেনি।’ (বুখারি, হাদিস ৩২৪৪)
এই আয়াত আমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়। এটি শুধু একটি প্রতিশ্রুতি নয়; বরং একটি আহ্বান যেোনে বলে দেয়া হয়েছে যে; আমাদের উচিত আমাদের বিশ্বাসকে শুদ্ধ করা এবং তা কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করা। কারণ জান্নাত কেবল আশা করার বিষয় নয়; বরং তা অর্জন করতে হয় ঈমান ও সৎকাজের ধারাবাহিক সাধনার মাধ্যমে।



