চল্লিশ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের বড় দুই পুরস্কার

প্রতীকী ছবি
ইসলামে জামাতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। মসজিদে মুসলমানদের একত্রিত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করা ঈমানি ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও আল্লাহভীতির এক অনন্য প্রকাশ। বিশেষ করে জামাতে নামাজের শুরু থেকে উপস্থিত হয়ে ইমামের সঙ্গে প্রথম তাকবির পাওয়ার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এমন আমলের জন্য আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতের বিরাট কল্যাণের সুসংবাদ দিয়েছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي الْجَمَاعَةِ، يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الْأُولَى، كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَتَانِ: بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ، وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ
অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য চল্লিশ দিন জামাতে নামাজ আদায় করবে এবং প্রথম তাকবির পাবে, তার জন্য দুটি মুক্তির সনদ লিখে দেওয়া হবে: জাহান্নাম থেকে মুক্তির সনদ এবং মুনাফিকি থেকে মুক্তির সনদ।’ (সহীহুল জামে‘, হাদিস : ৬৩৬৫)
এই হাদিসে দুটি অত্যন্ত বড় পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে। প্রথমটি হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি। জাহান্নাম এমন এক ভয়াবহ স্থান, যার শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া প্রত্যেক মুমিনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা। একজন বান্দা যদি নিয়মিতভাবে জামাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে এবং চল্লিশ দিন প্রথম তাকবিরের সঙ্গে নামাজ আদায় করে, তাহলে তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ রয়েছে। এটি আল্লাহর অসীম রহমত ও অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ।
দ্বিতীয় পুরস্কার হলো মুনাফিকি থেকে মুক্তি। মুনাফিকি অত্যন্ত ভয়ংকর বিষয়। বাহ্যিকভাবে নিজেকে মুসলমান হিসেবে প্রকাশ করলেও অন্তরে ঈমানের বিরোধিতা করা মুনাফিকির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর নামাজের ব্যাপারে অলসতা ও জামাত থেকে বিমুখতা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিয়মিত জামাতে উপস্থিত হওয়া একজন মুমিনের ঈমানি সচেতনতা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের পরিচয় বহন করে।
এখানে ‘চল্লিশ দিন’ এবং ‘প্রথম তাকবির’ উভয় বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জামাতে নামাজ পড়াই নয়, বরং নামাজের শুরুতেই ইমামের তাকবিরে তাহরিমার সঙ্গে শরিক হওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে একজন মুসলমানের জীবনে সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ ও ইবাদতের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, হাদিসের এমন ফজিলতকে আমল করার ক্ষেত্রে আমাদের উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, শুধু পুরস্কার লাভ নয়। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি অসুস্থতা বা শরিয়তসম্মত ওজরের কারণে জামাতে উপস্থিত হতে না পারলে তাকে হতাশ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ বান্দার নিয়ত ও সাধ্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।
সুতরাং আমাদের উচিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের দৃঢ় সংকল্প করা এবং বিশেষভাবে ইমামের প্রথম তাকবির পাওয়ার চেষ্টা করা। চল্লিশ দিনের এই ধারাবাহিক আমল আমাদের নামাজের প্রতি ভালোবাসা বাড়াতে পারে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ সুগম করতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করার এবং এই মহান ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক



