সুস্থতা সম্পদের চেয়েও বড় নিয়ামত

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনে অর্থ-সম্পদ, সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি অত্যন্ত মূল্যবান নিয়ামত। পার্থিব জীবনে স্বচ্ছন্দতার জন্য মানুষ সম্পদ অর্জন করে, রোগমুক্ত ও কর্মক্ষম থাকার জন্য সুস্থতা কামনা করে এবং জীবনের নানা ব্যস্ততা ও সংকটের মধ্যেও মনের শান্তি খোঁজে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এসব নিয়ামতের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে মানুষের তাকওয়া ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। সম্পদ থাকলেই মানুষ প্রকৃত অর্থে সুখী হয় না, আবার সম্পদের স্বল্পতাও সবসময় অশান্তির কারণ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্পদ, সুস্থতা ও মনের প্রশান্তির প্রকৃত মূল্য তুলে ধরে বলেছেন-
لَا بَأْسَ بِالْغِنَى لِمَنِ اتَّقَى، وَالصِّحَّةُ لِمَنِ اتَّقَى خَيْرٌ مِنَ الْغِنَى، وَطِيبُ النَّفْسِ مِنَ النَّعِيمِ
হাদিসটিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমেই সম্পদের ব্যাপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। “যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, তার জন্য ধন-সম্পদে কোনো দোষ নেই।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫৪)
অর্থাৎ সম্পদ নিজে নিন্দনীয় নয়। হালাল উপায়ে অর্জিত সম্পদ যদি আল্লাহর বিধান মেনে উপার্জন ও ব্যয় করা হয়, তাহলে তা মানুষের জন্য কল্যাণের মাধ্যম হতে পারে। একজন মুত্তাকি ব্যক্তি সম্পদকে জীবনের উদ্দেশ্য বানায় না; বরং আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে ব্যবহার করে। সে নিজের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার আদায় করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করে।
এরপর হাদিসে সুস্থতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, তার জন্য সুস্থতা ধন-সম্পদের চেয়েও উত্তম।” কারণ অর্থ-সম্পদ থাকলেও শরীর অসুস্থ হলে মানুষ অনেক সময় তা ভোগ করতে পারে না। বিপরীতে সুস্থ শরীর মানুষকে ইবাদত, পরিশ্রম, পরিবার ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ দেয়। তাই সুস্থতাকে অবহেলা না করে এর যথাযথ যত্ন নেওয়া এবং সুস্থতার সময়টিকে নেক কাজে কাজে লাগানো উচিত।
সবশেষে বলা হয়েছে, “মনের প্রশান্তি নিয়ামতের অন্তর্ভুক্ত।” এটি হাদিসটির অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা। বাহ্যিক প্রাচুর্য থাকলেও অন্তরে অশান্তি থাকলে মানুষ প্রকৃত সুখ অনুভব করতে পারে না। আল্লাহর ওপর ভরসা, তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা, হালাল-হারামের সীমা মেনে চলা এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস মানুষের অন্তরে প্রশান্তি তৈরি করে। তাই প্রকৃত সফলতা শুধু সম্পদ অর্জনে নয়; বরং তাকওয়ার মাধ্যমে এমন জীবন গড়ে তোলায়, যেখানে সম্পদ থাকলে তা কল্যাণের মাধ্যম হয়, সুস্থতা হলে তা ইবাদত ও সেবায় ব্যয় হয় এবং অন্তর আল্লাহর স্মরণে প্রশান্ত থাকে।



