হাদিসের কথা
নেতৃত্ব শুধু মর্যাদা নয়; এটি একটি ভারী আমানত

প্রতীকী ছবি
মানুষের স্বভাবের একটি দিক হলো নেতৃত্ব, ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জনের প্রতি আকর্ষণ। অনেকেই মনে করে, নেতৃত্ব মানেই সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু ইসলাম এই আকাঙ্ক্ষাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখেছে এবং দায়িত্বশীলতার দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছে। কারণ, নেতৃত্ব শুধু মর্যাদা নয়; এটি একটি ভারী আমানত, যার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে জবাবদিহি করতে হবে। এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করতেই রাসুলুল্লাহ (সা.) এই হাদিসে গভীর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّكُمْ سَتَحْرِصُونَ عَلَى الإِمَارَةِ وَسَتَكُونُ نَدَامَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَنِعْمَ الْمُرْضِعَةُ وَبِئْسَتْ الْفَاطِمَةُ
আবু হুরাইরাহ (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা নিশ্চয়ই নেতৃত্বের লোভ করো, অথচ কিয়ামতের দিন তা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কত উত্তম দুগ্ধদায়িনী এবং কত মন্দ দুগ্ধ পানে বাধা দানকারিণী (এটা)। (অর্থাৎ এর প্রথম দিক দুগ্ধদানের মতো তৃপ্তিকর, আর পরিণাম দুধ ছাড়ানোর মতো যন্ত্রণাদায়ক)। (বুখারি, হাদিস : ৭১৪৮)
এই হাদিসে ‘দুগ্ধদায়িনী’ এবং ‘দুধ ছাড়ানো’র উপমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নেতৃত্বের শুরুটা অনেক সময় আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য মনে হয়। যেমন একটি শিশু মায়ের দুধ পান করে তৃপ্তি পায়। এতে সম্মান, ক্ষমতা এবং সুযোগ-সুবিধা থাকে, যা মানুষকে এর প্রতি আকৃষ্ট করে।
কিন্তু এর পরিণতি ভিন্ন। কিয়ামতের দিন একজন নেতাকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। যদি সে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয় বা দায়িত্বে অবহেলা করে, তাহলে তা তার জন্য লজ্জা ও কঠিন শাস্তির কারণ হবে। এই অবস্থাকে দুধ ছাড়ানোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা শিশুর জন্য কষ্টদায়ক ও বেদনাদায়ক।
অর্থাৎ, নেতৃত্ব কেবল সম্মান বা সুযোগ নয়; এটি একটি বড় আমানত। যে ব্যক্তি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তাকে সতর্কতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আল্লাহভীতি নিয়ে তা পালন করতে হবে। অন্যথায়, এই আকাঙ্ক্ষিত জিনিসই পরিণামে তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে নেতৃত্ব কোনো কাম্য বস্তু নয়, বরং এটি একটি বড় দায়িত্ব। তাই অযথা এর লোভ না করে, বরং যোগ্যতা ও আল্লাহভীতির সাথে দায়িত্ব পালন করাই হলো মুমিনের আদর্শ।



