মহানবী (সা.) যাকে পরিপূর্ণ মুমিন বলেছেন

প্রতীকী ছবি
ইসলামে ঈমান শুধু বিশ্বাসের নাম নয়। কারণ ঈমানের সৌন্দর্য মানুষের আচরণ ও চরিত্রে প্রকাশ পায়। একজন মানুষ কত বেশি ইবাদত করে, তার পাশাপাশি সে অন্য মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, কথাবার্তায় কতটা সংযত, ক্ষমাশীল ও বিনয়ী, তার মধ্যেও ঈমানের গভীরতা প্রতিফলিত হয়। এ কারণেই মহানবী (সা.) উত্তম চরিত্রকে পরিপূর্ণ ঈমানের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
‘মুমিনদের মধ্যে ঈমানে সবচেয়ে পরিপূর্ণ সে-ই, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৮২; তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)
এই হাদিসে মহানবী (সা.) ঈমানের পূর্ণতার সঙ্গে সুন্দর চরিত্রের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। অর্থাৎ, উত্তম চরিত্র শুধুমাত্র ঈমানের বাহ্যিক অলংকারমা নয়; বরং ঈমানের পরিপূর্ণতার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশও বটে। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, নম্রতা, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, মানুষের প্রতি দয়া এবং কারও প্রতি অন্যায় না করা একজন মুমিনের চরিত্রের অংশ।
পবিত্র কোরআনেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্রের অসাধারণ মর্যাদা ঘোষণা করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা আল কালাম, আয়াত ৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ছিল উত্তম চরিত্রের বাস্তব পাঠশালা। তিনি মানুষের ভুল ক্ষমা করেছেন, দুর্বলদের প্রতি দয়া দেখিয়েছেন, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করেছেন এবং বিরোধীদের সঙ্গেও ন্যায়সংগত আচরণ করেছেন।
উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো বস্তু থাকবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০২)। এতে বোঝা যায়, মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ কোনো তুচ্ছ সামাজিক সৌজন্য নয়; এটি আখিরাতে নাজাতের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
আজ আমরা ইবাদতের নানা দিক নিয়ে যতটা সচেতন, চরিত্র সংশোধনের বিষয়ে অনেক সময় ততটা মনোযোগী নই। অথচ একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয় প্রকাশ পায় তার পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণে, দুর্বল মানুষের প্রতি ব্যবহারে এবং মতভেদের সময় তার ভাষা ও সংযমে।
সুতরাং ঈমানকে পূর্ণতার দিকে নিতে হলে শুধু আমল বাড়ালেই হবে না, আখলাকও সুন্দর করতে হবে। কারণ মহানবী (সা.)-এর ভাষায়, সুন্দর চরিত্রই মুমিনের ঈমানের পরিপূর্ণতার অন্যতম উজ্জ্বল পরিচয়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক



