গোপনে ফোনকল রেকর্ড: ইসলাম কী বলে?

প্রতীকী ছবি
মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গোপনে ফোনকল রেকর্ড করা, অন্যের ব্যক্তিগত কথোপকথন আড়ি পেতে শোনা, অনুমতি ছাড়া ভয়েস রেকর্ড করা বা ব্যক্তিগত বার্তা পড়ার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। অনেকেই এগুলোকে তুচ্ছ বিষয় মনে করলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো গুরুতর নৈতিক অপরাধ।
ইবনে আব্বাস (রা.) সুত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো লোকের কথায় কান পাতে, অথচ তারা তা অপছন্দ করে বা তার কাছ থেকে নিজেদের কথাবার্তা গোপন রাখতে চায়, কিয়ামতের দিন তার উভয় কানে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ৭০৪২)
এই হাদিসে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় অন্যের গোপন কথায় কান পাতার পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ ইসলাম মানুষের সম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কারও অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত কথোপকথন শোনা বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
পবিত্র কোরআনেও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২) এই আয়াত শুধু দোষ অনুসন্ধানই নয়, অন্যের ব্যক্তিগত জীবন ও গোপনীয়তায় অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকেও বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।
আজকের বাস্তবতায় এ শিক্ষার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গোপনে অন্যের মোবাইল তল্লাশি করা, অনুমতি ছাড়া ফোনকল রেকর্ড করা, অফিসে সহকর্মীর ব্যক্তিগত আলাপ আড়ি পেতে শোনা, কারও ভয়েস মেসেজ বা ব্যক্তিগত তথ্য গোপনে সংগ্রহ করা কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া ইসলামী নৈতিকতার পরিপন্থী। এমনকি কৌতূহলবশত হলেও কারও ব্যক্তিগত আলাপ শোনার চেষ্টা করা একজন মুমিনের চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে শরিয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রয়েছে। যদি কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অপরাধ তদন্ত বা মানুষের জানমাল রক্ষার স্বার্থে আইনসম্মতভাবে তথ্য সংগ্রহ করে, তাহলে সেটি ব্যক্তিগত কৌতূহল বা অন্যায় গুপ্তচরবৃত্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ ইসলাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পাশাপাশি সমাজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করতে চায়।
একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো মানুষের সম্মান ও গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। অন্যের অগোচরে তার ব্যক্তিগত কথাবার্তা শোনার পরিবর্তে নিজের চরিত্র সংশোধনে মনোযোগী হওয়াই ইসলামের শিক্ষা। মনে রাখতে হবে, যে কান আল্লাহর অবাধ্যতায় ব্যবহৃত হয়, কিয়ামতের দিন সেই কানকেই কঠিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক






