জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার, পুড়িয়ে দিল ছাত্রদল

ছবি: আগামীর সময়
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ব্যানার টানিয়েছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। তবে ব্যানারটি টানানোর কিছুক্ষণ পর তা নামিয়ে পুড়িয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটসংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বরের সামনে ফুটওভার ব্রিজে ‘শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন’ স্লোগানসংবলিত ব্যানারটি টানানো হয়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ব্যানারটি টানান।
ব্যানারটি দেখতে পেয়ে পরে সেখানে জড়ো হন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আউয়ালের নেতৃত্বে তারা ব্যানারটি নামিয়ে পুড়িয়ে দেন। এ সময় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দীন শিহাব, শাহিনুল ইসলাম টিটু, সোহেল তানভীর, মেহেদী হাসান, আহ্বায়ক সদস্য আসিফ আরাফাত মুন্না, সদস্য সুলতান মাহমুদ শুভ এবং নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা আক্তার রিমি উপস্থিত ছিলেন।
ব্যানার টানানোর বিষয়ে আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, ‘১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর শোকের দিন। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস কখনো ভুলে যাওয়ার বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীরতম ক্ষত হয়ে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দিনে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রত্যাশা করি।’
ছাত্রদলের শাখা সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বললেন, ‘ছাত্রলীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রম বা প্রচার-প্রচারণা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মেনে নেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এভাবে ব্যানার টানিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। আমরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চাই না। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা হলে প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আজম খান বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের ব্যানার বা প্রচার-প্রচারণা ক্যাম্পাসে করার সুযোগ নেই। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ক্যাম্পাসে কোনো পক্ষই যেন এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করে, যাতে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয় বা উত্তেজনা তৈরি হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।






