সব পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের

রাকিবুল ইসলাম রাকিব
ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরসহ সব পক্ষকে নতুনভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
আজ শুক্রবার সকালে ছাত্রদলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ অনুরোধ জানান ছাত্রদল সভাপতি।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, গতকাল এবং আজ ক্যাম্পাসগুলোতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলভাবে মোকাবিলা করেছে। দুটো ঘটনাই গুপ্ত রাজনীতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম নোংরামির অশ্লীল ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই ২টি ইস্যুতে বিগত প্রায় ২ বছর যাবত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ জারি রেখেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম শেষে ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ সব পক্ষকে অনুরোধ করছি, আমরা কেও যেন নতুনভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হই। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, তারা নিজেরা কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে না এবং কারও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না।
রাকিবুল স্ট্যাটাসে লিখেছেন, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে প্রতিনিয়ত সেই পরিস্থিতি তৈরি করছে। আজ উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাহউদ্দিন আম্মার আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ে বিকৃত মানসিকতার সালাহউদ্দিন আম্মার জিয়া পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল, নোংরা স্ট্যাটাসই শুধু নয়, আজ ছাত্রদলকে বাজে ভাষায় গালি দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, সালাহউদ্দিন আম্মারকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ছাত্রদল শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়/রাজশাহী জেলা, মহানগর ইউনিটে সমৃদ্ধ নয়, আম্মারের জন্মস্থান যেখানে তার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন, সেখানে যেমন ছাত্রদল রয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, জেলা, মহানগর, উপজেলায় ছাত্রদলের লাখ লাখ নেতা-কর্মী রয়েছে। ৫ আগস্টের পর এই সালাহউদ্দিন আম্মারদের আবির্ভাব, কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ সাড়ে পনের বছর হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামে উত্তীর্ণ। তারা মজলুম, তারা নির্যাতিত, তারা নিপীড়িত। অথচ সেই মজলুমদের বিরুদ্ধেই ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে আবির্ভূত সালাহউদ্দিন আম্মার আজ এ ধরনের অশ্রাব্য ভাষায় প্রতিনিয়ত গালি দিয়ে যাচ্ছে, চরিত্র হরণ করে যাচ্ছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদেরসহ ছাত্র সমাজের নিকট নিবেদন রাখলাম, সেই সঙ্গে যে ছাত্র সংগঠন আম্মারকে বি-টিম হিসেবে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছে, তাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সালাহউদ্দিন আম্মারকে বলছি, কোনো মানসিক বিকারগ্রস্থকে রক্ষার দায়িত্ব ছাত্রদল নেয়নি। ৭১ এর লাখো শহীদের রক্তে কেনা এবং জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কয়েক হাজার ছাত্র-জনতার রক্তে কেনা বাংলাদেশে কেউ অপকর্ম করে রক্ষা পায়নি, ভবিষ্যতেও রক্ষা পাবে না। সংশোধন হওয়ার আহ্বান জানাই। সালাহউদ্দিন আম্মারসহ সবাইকে গণতান্ত্রিক ভাষায় গঠনতান্ত্রিক সমালোচনা করার জন্য আহ্বান রইল, আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা, প্রয়োজনে রাজপথে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন কিন্তু অশ্লীল, নোংরামি চিরতরে বন্ধ করুন। ক্যাম্পাস ও শিক্ষার পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখার জন্য এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব, সেই কামনা করছি।

