জামায়াতকে দেখে ‘রাজাকার’ স্লোগান, জবাবে ‘গোলাম আযম লও সালাম’

সংগৃহীত ছবি
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর। দিনবদলের সেই ক্ষণে, সময়ের কাঁটা স্পর্শ করেছে রাত বারোটাকে। নীরবতা আর শোকগম্ভীর পরিবেশে মানুষের ঢল নেমেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ফুলে ফুলে ঢেকে ছিল বেদি, উচ্চারিত হয়েছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চারদিকে যখন এই আবহ, তখন রাত ১২টা ২২ মিনিটে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শহীদ মিনারে এটিই তার প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন। সঙ্গে ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। শান্ত পরিবেশ ততক্ষণে অশান্ত। একদল যুবক তাকে উদ্দেশ্য করে ‘রাজাকার, রাজাকার’, ‘একাত্তরের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘একাত্তরের রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’- এসব স্লোগান দিতে শুরু করেন।
জবাবে সেখানে উপস্থিত জামায়াত নেতাকর্মীরাও পাল্টা স্লোগান তোলেন- ‘ভাষাসৈনিক গোলাম আযম, লও লও লও সালাম’। স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উত্তেজনা ও হট্টগোল।
এ সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এনসিপির নেতারা দ্রুত আমিরের গাড়ির কাছে ফিরে যান। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পরে ডা. শফিকুর রহমান ও জোটের নেতারা শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জামায়াতের আমির বলেন, ‛রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা (শ্রদ্ধা নিবেদন) আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।’
এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‛এখনও কি জামায়াত এটাকে (শ্রদ্ধা নিবেদন) নাজায়েজ মনে করে?’ প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান পাল্টা বলেন, ‘আপনি এই প্রশ্ন কেন আজকে করছেন?’



