তরুণ ও নারী ভোটেই নির্ধারিত হতে পারে ভাগ্য

ফাইল ছবি
আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের লড়াইয়ে প্রার্থী অনেক, সমীকরণও জটিল। তবে শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, তার বড় উত্তর লুকিয়ে আছে তরুণ ও নারী ভোটারদের সিদ্ধান্তে। গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া বিপুলসংখ্যক ভোটারের এবারই প্রথম ব্যালট দেওয়ার সুযোগ মিলছে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে উৎসাহ বেশি।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এবারের ভোট অন্য রকম বাস্তবতায় হচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। ফলে ভোটের ভারসাম্য তৈরি হবে মূলত নতুন প্রজন্ম ও নারী ভোটারদের পছন্দে।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটার প্রায় চার কোটি ৩২ লাখ। ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী আছেন ৮৫ লাখের বেশি। ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সী প্রায় এক কোটি ২০ লাখ। ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় এক কোটি ২১ লাখ। ৩০ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটার প্রায় এক কোটি ছয় লাখ। অর্থাৎ মোট ভোটারের বড় একটি অংশই তরুণ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রজন্মকে এক কথায় প্রভাবিত করা কঠিন। তারা তথ্য দেখে, তুলনা করে, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে নারী ভোটাররাও পরিবার বা সামাজিক চাপের বাইরে গিয়ে নিজেদের মত প্রকাশে আগ্রহী। এই দুই গোষ্ঠীর উপস্থিতি যত বাড়বে, ফলাফল তত অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
ডিজিটাল প্রচারণাও এবার বড় ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থী, প্রতিশ্রুতি, অতীত কর্মকাণ্ড সবই খোলামেলা আলোচনায় এসেছে। তরুণ ভোটাররা সেখান থেকেই ধারণা নিচ্ছেন। তাই আবেগের চেয়ে বিবেচনাই প্রাধান্য পেতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অমুসলিম ভোটাররাও এবার গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন একটি নির্দিষ্ট দিকে ঝোঁক ছিল বলে যে ধারণা প্রচলিত, সেটি এবার বদলাতে পারে। তারা যে প্রার্থীকে নিজেদের জন্য বেশি নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য মনে করবেন, তার দিকেই যেতে পারেন।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের তথ্য অনুযায়ী, অমুসলিম ভোটার প্রায় সোয়া এক কোটি। এমন বহু আসন আছে যেখানে এই ভোট ফল পাল্টে দিতে পারে। কোথাও ৭০ হাজারের বেশি, কোথাও ৫০ হাজার, আবার কোথাও ২৫ হাজারের ওপর হিন্দু ভোটার রয়েছেন।
তরুণ ও নারী ভোট টানতে বড় দলগুলো প্রচারণায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি খাতকে সামনে এনেছে। বিএনপি পরিবারভিত্তিক সহায়তার কথা বলছে। জামায়াত স্বনির্ভরতা গড়ার অঙ্গীকার করছে। আইটি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো খাতে সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে তারা।
সব মিলিয়ে এবার ব্যালটের শক্তি অনেকটাই নতুন ভোটার, নারী এবং সচেতন তরুণদের হাতে। তারা যেদিকে ঝুঁকবেন, বিজয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হবে।



