শফিকুর রহমান
জামায়াতের বড় চ্যালেঞ্জ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি

দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান—সংগৃহীত ছবি
দলের নেতাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি নিয়ামত, যা অন্য কোনো সংগঠনে নেই। তবে জামায়াতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক বাধা।’
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা-মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা বললেন, উপমহাদেশের চারটি দেশের মধ্যে আমাদের এ সংগঠনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলো এসেছে। অন্যদিকে ভারতে মুসলমানরা নিরাপদ নয়। তারা সবসময় জান-মাল, ইজ্জত ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিমরা সবসময় লড়াই করে যাচ্ছেন এবং তাদের রক্ত দিতে হচ্ছে।
তার ভাষ্য, এই উপমহাদেশে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে মুসলমানরা। এর ফলে ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের অভিযাত্রায় অসংখ্য নেক বান্দা যুক্ত ছিলেন। তাদের ত্যাগ, কোরবানি ও সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং অনেকেই শহীদ হয়েছেন। আল্লাহর পথে তাদের ত্যাগ ও কোরবানির ফল এ জাতি পাবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহকে ডাকতে হবে একিন ও ইখলাসের সঙ্গে। একিন ও ইখলাস যেখানে একসঙ্গে থাকে, সেখানে কোনো ফারাক থাকে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিষয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ আমরা ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। নির্বাচনে মানুষ প্রত্যাশা করেছিল যে, তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত দলকে দায়িত্ব দেবে; যারা সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করবে। জামায়াতই একটি দল যারা এর উপযুক্ত। আল্লাহ আমাদের যতটুকু যোগ্য মনে করেছেন, ততটুকু দায়িত্ব দিয়েছেন।
‘আমাদের লক্ষ্য যদি হয় জামায়াতকে ক্ষমতায় আনা, তাহলে আমাদের ব্যাপ্তি দুনিয়া পর্যন্ত। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তাহলে তার ব্যাপ্তি হবে আখিরাত পর্যন্ত। যিনি দেশ চালানোর সক্ষমতা রাখেন তার হক গোটা দেশের’, যোগ করেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনে সমাজের ভালো মানুষগুলোকে বাছাই করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিক যোগ্যতাসম্পন্নদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যারা হালাল উপার্জন এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তাদেরই বাছাই করতে হবে; তিনি যে স্তরের জনশক্তিই হোন না কেন। এর মাধ্যমে সেখানে দায়িত্বশীল তৈরি হবে।





