নিজেদের স্বার্থে ষোলো আনা

৮ আগস্ট ২০২৪ শপথ নিচ্ছেন নাহিদ ও আসিফ (বামে) আজ সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে নাহিদ-হাসনাত
যখন নিজেদের পক্ষে যায় তখন তারা সেটাকে মেনে নিয়েছেন, কিন্তু যখন রাষ্ট্রের পক্ষে যাচ্ছে তখন তারা মানতে পারছেন না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শুরু হতেই বাধে হট্টগোল। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে লালকার্ড দেখায় বিরোধী দল। এরপর ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, তাদের সঙ্গে প্রতিবাদ জানান এনসিপির সংসদ সদস্যরা।
ওয়াক আউটের সময় নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহরা রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন, ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান।’ ও ‘ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলবে না।’
এখন নাহিদরা ‘ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলবে না’ বললেও ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বতী সরকারের যাত্রা শুরু হয় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের হাত ধরেই, উপদেষ্টারা শপথ নেন তার হাতেই। এনসিপির সুপ্রিমো নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতির পাশে দাঁড়িয়েই তখন শপথ নেন। তিনজন ছাত্র উপদেষ্টা ওই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফলে আজ যখন তারা সংসদে ওয়াক আউট করছেন তখন অন্তর্বতী সরকারের শপথ গ্রহণের ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে নাহিদ ও আসিফকে রাষ্ট্রপতির পাশে দাঁড়িয়ে শপথ নিচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগের দিনই রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জানান দেয় সরকার ও বিরোধী দল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জোর দিয়েছিলেন, সাংবিধানিক রীতিতে সংসদে অবশ্যই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দোসর, সংসদে তার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক সেই চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে চলছে। বিএনপি বরাবরই সংবিধানের নিয়ম-রীতি মেনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আর জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তখন থেকেই চেয়ে আসছে অপসারণ— রাষ্ট্রপতি নিজেই তুলেছেন এমন অভিযোগ।
এই রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়েই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার, যার প্যানেলে ছিলেন অভ্যুত্থানের তরুণ তিন নেতা।
বাংলাদেশের ১৬তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরিবর্তনের পরও তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।

