বিরোধী দল শেখ হাসিনার মতো কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংগৃহীত ফাইল ছবি
বিরোধী দলের নেতারা এখন এমন ভাষায় কথা বলছেন, যা একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবহার করতেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত; সংঘাতমুখী রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বললেন, ‘এখন যে ভাষায় বিরোধী দলের নেতারা কথা বলছেন, এভাবে কথা বলতেন শেখ হাসিনা। আজ একইভাবে আমাদের বিরোধীদলীয় নেতারা কথা বলতে শুরু করেছেন।’
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকলে তা সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত। আলোচনার পরও একমত হওয়া না গেলে বিরোধী দল তাদের অবস্থান বজায় রাখতে পারে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি যেন সংঘাতের দিকে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
তার মতে, সরকারের সমালোচনা করা বিরোধী দলের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু সেই সমালোচনা সংসদের ভেতরে হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ শক্তিশালী হয়। রাস্তায় আন্দোলনও গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ, তবে তা এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়, যেখানে সংঘাত সৃষ্টি হয়।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বললেন, একটি মহল বিএনপি জুলাই সনদ গ্রহণ করছে না— এমন ভুল ধারণা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তার দাবি, বিএনপি সংস্কারের পক্ষেই রয়েছে এবং জুলাই ঘোষণার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের বিষয়ে দলের আপত্তির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনের বিষয়টি এগিয়ে নিয়েছিল। সে কারণেই বিএনপি শুরু থেকেই এ বিষয়ে দ্বিমত জানিয়ে আসছে।’
সরকারের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। এত অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল আচরণ এবং গঠনমূলক ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বললেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই, যা ইতিবাচক দিক। একই সঙ্গে বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






